ঝাড়খণ্ডে পারিবারিক কলহ! শিবু সোরেনের বৌমার যোগদান বিজেপিতে
ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিধায়ক পদে ইস্তফা দেওয়ার পরে বিজেপিতে যোগ দিলেন সীতা সোরেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি একটি চিঠি দলের সভাপতি তথা শ্বশুর শিবু সোরেনকে পাঠিয়েছেন। সীতা সোরেন বলেছেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
সীতা সোরেন শিবু সোরেনর বড় ছেলের স্ত্রী অর্থাৎ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বৌদি। তিনি দুমকার জামা বিধানসভা আসন থেকে তিনবারের বিধায়ক। সীতা সোরেন বলেছেন, তাঁর প্রয়াত স্বামী দুর্গা সোরেন ছিলেন ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের একজন অগ্রণী যোদ্ধা। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার ক্রমাগত অবহেলার শিকার হয়েছেন। তিনি দল ও পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। প্রসঙ্গত ২০০৯ সালে বোকারোয় মৃত্যু হয় দুর্গা সোরেনের। তারপরেই দলে হেমন্ত সোরেনের মর্যাদা বাড়ে।

সীতা সোরেন বলেছেন, তিনি আশা করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি। তিনি বলেছেন, দল এখন তাদের হাতে চলে গিয়েছে, যাদের দৃষ্টি ও উদ্দেশ্য তার মূল্যবোধ ও আদর্শের সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেছেন, শিবু সোরেন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি (সীতা সোরেন) সম্প্রতি জানতে পেরেছেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সেই জন্যই তিনি ঝড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও পরিবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ৩১ জানুয়ারি ইডি গ্রেফতার করে হেমন্ত সোরেনকে। জমি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত অর্থ তছরুপের মামলায় এখন জেলে হেমন্ত সোরেন। হেমন্ত সোরেনের জায়গায় চম্পাই সোরেনকে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয় এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই সিদ্ধান্ত অখুশি ছিলেন সীতা সোরেন। সূত্রের খবর, দল ও পরিবারের তরফে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও, তা ব্যর্থ হয়।
এছাড়াও তাঁকে কোনও সময় হেমন্ত সোরেন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না করাও দল ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে। সীতা সোরেনকে প্রায়ই রাজ্যের অবৈধ খনি ও পরিবহন ইস্যুতে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে সীতা সোরেনের নামও জড়়িয়ে পড়েছে ক্যাশ ফর ভোটের মামলায়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে দিয়েছে, তাঁকে বিশেষ সিবিআই আদালতের মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে সীতা সোরেনের দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন জেএমএম নেতা মনোজ পান্ডে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সীতা সোরেন তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।












Click it and Unblock the Notifications