১৯৩৫ সালে দেশভাগ করার কথা বলেছিলেন সাভারকারই, বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ কংগ্রেসের
১৯৩৫ সালে দেশভাগ করার কথা বলেছিলেন সাভারকার। সোমবার নাগরিকত্ব বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা চলাকালীন এভাবেইকে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে কংগ্রেস।
১৯৩৫ সালে দেশভাগ করার কথা বলেছিলেন সাভারকারই। সোমবার নাগরিকত্ব বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা চলাকালীন এভাবেইকে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদদ মণীশ তিওয়ারি অভিযোগ করেন যে হিন্দুত্ববাদের মতবাদ নিয়ে ১৯৩৫ সালেই হিন্দু মহাসভার ভিডি সাভারকার ধর্মের ভিত্তিতে দেশের কথা বলেছিলেন।

কংগ্রেসকে তোপ দেগেছিলেন অমিত শাহ
এর আগে সোমবার সকালে বিল পেশ করার আগে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়ওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কংগ্রেসকে তোপ দেগে বলেছিলেন, 'আজ যখন বিরোধীরা এত প্রশ্ন তুলছে তখন আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে দেশ বিভাজনের সময় যদি কংগ্রেস ধর্মের আধারে তা না করত তবে আজ এই বিলের প্রয়োজন পরত না। আজ তা হলে ওদের এটা শুনতে হবে। আজ ওরা এই বিলের বিরোধিতা করছে। তবে তারা ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ না করলে এই বিলের প্রয়োজন পরত না।'

এর আগে অধীরের বক্তব্য
এর আগে কংগ্রেসের তরফে বিলের বিরোধিতায় অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, 'আমরা ধর্মনিরপেক্ষ দেশে বাস করি, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়া ঠিক নয়।' বিলটি সংখ্যালঘুদের স্বার্থ বিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারাকে আক্রমণ করা হচ্ছে এই বিলের মধ্য দিয়ে।'

পল্টা অভিযোগ কংগ্রেসের
সংসদে করা অমিত শাহের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পর কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ বলেন, 'আমরা খুব গর্বের সঙ্গে বিশ্বাস করি যে আমাদের দেশ এত সমৃদ্ধ আমাদের সংবিধআনের জন্য। তবে আজ ভারতের জন্য একটি কালো দিন।' এরপর বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, 'যেই দল নিজে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনও ভূমিকা নেয়নি সেই দলের থেকে এরকম মন্তব্য আসা ঠিক নয়।'

'অত্যাচার থেকে বাঁচাতে এই বিল'
অমিত শাহ বলেন, '১৯৭১-র পরেও বাংলাদেশে সেখানের সংখ্যালঘুদের খুঁজে খুঁজে মারা হয় ও সেখানে অত্যাচার চলে। কংগ্রেস নিজেও দণ্ডকারণ্যে থাকা বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিয়েছিল। রাজীব গান্ধীর সময় উগান্ডা থেকে আসা শরণার্থীদেরও কংগ্রেস নাগরিকত্ব দিয়েছিল। তবে তখন ব্রিটেন থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়নি কংগ্রেস।'

মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর পাশ হয় বিলটি
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই বিতর্কে গতকাল ৪৮ জন বক্তা নিজস্ব মতামত রাখেন৷ বিল পাশের পর অমিত শাহ বলেন, এটি ঐতিহাসিক৷ নেহরু-লিয়াকত যা পারেননি ৷ খুব তাড়াতাড়ি নাগরিক পঞ্জিকরণ শুরু হবে বলেও মন্তব্য করেন শাহ ৷ সংবিধানকে কোনওভাবেই লঙ্ঘন করা হয়নি, বিরোধীদের দাবি নাকচ করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান এমনই ৷ তাঁর কথায়, সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার কোনওরকম অবমাননা করা হয়নি ৷ প্রতিবেশী দেশগুলিতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারে না ভারতের মতো রাষ্ট্র ৷ শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর ৩১১-৮০ ব্যবধানে বিলটি পাশ হয় লোকসভায়।












Click it and Unblock the Notifications