পশ্চিমবঙ্গে উধাও আইনের শাসন, রাজ্যসভায় তৃণমূলকে নিশানা নাড্ডার
বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে আইনের শাসন একেবারেই উধাও। আজ রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুললেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
এসআইআর সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন, যার মাধ্যমে কাঠগড়ায় তুললেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই।

নাড্ডাকে তৃণমূল নেতা সুখেন্দু শেখর রায় প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজ্যে এসআইআর-এর নামে 'জোরপূর্বক ব্যবস্থা' নেওয়া হয়েছে। এর জবাবে নাড্ডা সুখেন্দুকে উদ্দেশ করে বলেন, "তিনি (রায়) বলেছেন কেন একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং কেন এত জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"
এরপর নাড্ডা যোগ করেন, "পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে নিয়মকানুন এবং আইনের শাসন একেবারেই উধাও হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি তাদের কোনও শ্রদ্ধা নেই। রাজনৈতিক রীতিনীতির প্রতি তাদের কোনও শ্রদ্ধা নেই। তারা গণতান্ত্রিক কার্যকলাপে বিশ্বাস করে না, এবং তারা এমনকী বিচার বিভাগকেও হুমকি দেয়।" তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, কেন্দ্র সরকার সর্বদা আইনের শাসন মেনেই চলে।
নাড্ডা সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক ভারতের রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করার ঘটনাটিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ভারতের রাষ্ট্রপতির পদকে অসম্মান করেছেন, যিনি একজন মহিলা এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের সদস্য। আইন, বিচারব্যবস্থা বা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই, সবাইকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" এটি মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব কার্যকলাপ, ভারত সরকারের নয়। কারণ কেন্দ্র আইনের শাসনের ভিত্তিতে কাজ করে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা সুখেন্দু শেখর রায় 'সমবায় ফেডারেলিজম' (cooperative federalism)-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের অধিকার রক্ষার জন্য গত পাঁচ দিন ধরে রাস্তায় প্রতিবাদ করছেন।
রায় পুনরায় দাবি তুলে ধরেন, "কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিনিধিদের একটি দল পাঠাতে হবে এবং জানতে হবে কেন এমনটা ঘটল, কেন মুখ্যমন্ত্রী গত পাঁচ দিন ধরে রাস্তায়।" তিনি বিশেষ অনুরোধ করেন, "শুধু পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর নামে এই জোরপূর্বক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়েছে, সেই সত্যটি খুঁজে বের করা উচিত।"
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কলকাতাতে ধরনায় বসেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে রাজ্যে ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮.৩ শতাংশ, তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৪ কোটির সামান্য বেশি হয়েছে।
এছাড়াও, ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারকে "বিচারের অধীনে" (under adjudication) বিভাগে রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, আগামী সপ্তাহগুলিতে আইনি যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। এই পদ্ধতি নির্বাচনী সমীকরণকে আরও বড় আকারে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications