করোনা কাঁটায় বিদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতি, সঙ্কট মোচনে কতটা দিশা দেখাচ্ছে ১০০ দিনের কাজ?
১০০ দিনেই কাজে সত্যিই ফিরছে গ্রামীণ অর্থনীতির হাল?
করোনা কাঁটায় বিদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতি। কাজ হারিয়ে ধুঁকতে থাকা লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে বর্তমানে একমাত্র আশার আলো মহাত্মা গান্ধী জাতীয় পল্লী কর্মসংস্থান প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএ)। এমজিএনআরইজিএ বা মনরেগা প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই বহু অভিবাসী শ্রমিক কাজ পেলেও সমস্যা একটাই, একই কাজের জন্য আগের চেয়েও অনেক বেশি মানুষ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী কাজের যোগান নেই। তবে যে কাজ রয়েছে তা আগের থেকে অনেকটাই দ্রুত হচ্ছে। ফলে ১০০ দিনের প্রকল্পের সময় নেমে এসেছে অনেক নীচে।

চলতি বছরে কাজ পেয়েছেন রেকর্ড সংখ্যক মানুষ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বছর রেকর্ড গড়েছে এমজিএনআরইজিএ প্রকল্প। এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করেছেন প্রায় ৯কোটি ৮০লক্ষ মানুষ, যাঁদের মধ্যে ৮কোটি ২০লক্ষ মানুষ কাজ পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১০ কোটি পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য কয়েকশো কোটি টাকার এই প্রকল্পও যথেষ্ট নয়, তহবিল যে পুনরায় ভর্তির দরকার পড়ছে তা অস্বীকার করেছেন না কোনো আধিকারিকই।

পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরতেই মনরেগার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ে ?
প্রকল্পের বিষয়ে বলতে গিয়ে সর্বোচ্চ আবেদনকারী সম্বলিত পাঁচ রাজ্যেই জানিয়েছে তারা সকল আবেদনকারীরই কর্মসংস্থান করেছে। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মহামারীর প্রথম ক'সপ্তাহে মনরেগা সফল হলেও অভিবাসী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতেই এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এ বিষয়ে জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছ থেকে মেলেনি কোনো সদুত্তর।

পুনরায় কাজের খোঁজে শহরে পাড়ি
অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত কাজ না পেয়ে গত কয়েকমাসে ফের একটা বড় অংশের পরিযায়ী শ্রমিকের দল শহরের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে। এই বিষয়টির উপরেও জোর দিতে দেখা যায় সমাজাবিজ্ঞানীদের। তাদরেও পরিষ্কার যুক্তি বাড়ি ফিরে কাজের অভাব দেখেই আবারও শহরে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় সর্বভারতীয় ব্যবসায়িক সমিতিকেও। অন্যদিকে চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় অর্থীনীতি প্রায় ২৪ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে।

গড়ে ৩৪ দিনের কাজ করেছেন বড় সংখ্যক মানুষ
প্রায় ১৫ বছর আগে এই প্রকল্প চালু হয় অসংগঠিত ক্ষেত্রে গ্রামীণ ভারতের মানুষদের অনাহার থেকে বাঁচাতে। মাথাপিছু বছরে সর্বোচ্চ ১০০ দিনের কাজ ও ২০০ টাকা বেতনের অঙ্গীকার করে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। সরকারি নথি বলছে, এখনও অবধি চলতি বছরে গড়ে ৩৪ দিনের কাজ করেছে প্রায় ৮লক্ষ পরিবার। যদিও বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানাচ্ছে, বাস্তবচিত্র একেবারেই উল্টো কারণ মনরেগা প্রকল্পের আওতায় একদিনের কাজ দিলেও তাঁর কর্মসংস্থান হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিছু আধিকারিকের মতে, যখন শ্রমিকরা শহরে ব্যস্ত ছিলেন তখন ১০০ দিনের কাজ ছিল, কিন্তু এখন শ্রমিকের সংখ্যাধিক্যের জেরেই অতি কম সময়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে কাজ।

১০০ দিনেই কাজে সত্যিই কি সুরাহা সম্ভব ?
শহরে একটি গাড়ি গ্যারেজে মাসে গড়ে রোজগার ছিল ৭,০০০-৮,৫০০ টাকা, সেখানে মনরেগা প্রকল্পে এক অভিবাসী শ্রমিক দৈনিক গড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকা বেতন পান। রাজস্থানে এই প্রকল্পের প্রধান পি. সি. কিষাণ জানিয়েছেন, "দক্ষ অভিবাসী শ্রমিকরা শহরে দিনে ৫০০-এর বেশি রোজগার করেন, কিন্তু ১০০ দিনের কাজ পেলেও ২২০ টাকার বেশি ওঠে। তার উপর কাজেও নিশ্চয়তা নেই।" বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে বৃক্ষরোপণ, রাস্তা তৈরি ও খাল মেরামতির মত কাজের মাধ্যমে সারা বছরই কমবেশি প্রত্যেক শ্রমিককে কর্মকান্ডে লিপ্ত রাখতে হবে, তবেই ধীরে ধীরে বদালাবে সামগ্রিক চিত্র।












Click it and Unblock the Notifications