মাশারত মুক্তি বিতর্ক : সংসদে বিবৃতি দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং
নয়াদিল্লি, ৯ মার্চ : মাশারত বিতর্কে আজ ফের উত্তাল হতে পারে সংসদ। আজ লোকসভায় মাশারতের মুক্তি নিয়ে বিবৃতি দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। আরও একবার গোটা ঘটনার জন্য সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করবেন বিরোধীরা।
হাত মেলাতে না মেলাতেই মুফতি সরকারের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বিধ্বস্ত জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি-পিডিপি জোট সরকার। শনিবারই মাশারত আলমকে মুক্তি দেয় জম্মু কাশ্মীরের মুফতি মহম্মদ সৈয়দের সরকার। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্কের ঝড় ওঠে সারা দেশে। বিজেপিকে কড়া সমালোচনায় বিদ্ধ করে বিরোধীরা। এরপর হুরিয়ত নেতা মাশারত আলমের মুক্তি নিয়ে রিপোর্ট তলব করছে কেন্দ্র। কেন হুরিয়ত নেতাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে গতকালই জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

কিন্তু ঘটনা হল, পিডিপির একের পর এক পদক্ষেপ অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের। শপথ নেওয়ার দিনই মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সঈদ বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, কাশ্মীরে শান্তিতে ভোট হওয়ার জন্য জঙ্গি, পাকিস্তান ও হুরিয়তকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। এই মন্তব্য ঘিরে প্রবল বিতর্ক হয়। এরপর কেন্দ্রের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে সরকারের প্রধান শরিক বিজেপিকে অন্ধকারে রেখেই মাশারত আলমকে জেল থেকে ছেড়েছেন মুফতি।
২০১০ সালে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ চালান মাশারত আলম। ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। যার জন্য মাশারতের জেল হয়। ২০১০ সালে জম্মু-কাশ্মীরের হারওয়ান এলাকা থেকে তাঁর গ্রেফতারির পরে ছ'জন পুলিশের পদোন্নতি হয়। মাসারতের গ্রেফতারির জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে বারামুলা জেল থেকে ছাড়া হল তা জানতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি কে রাজেন্দ্রর সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রসচিব এল সি গয়ালও। পরে মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সঈদের বৈঠক করেন কে রাজেন্দ্র।
জেল থেকে ছাড়া পেয়েই রাজ্য ও কেন্দ্রকে এক হাত নিয়েছেন মাশারত। তাঁর কথায়, "সরকার বদলালেও বাস্তবের পরিস্থিতি বদলায় না। তা একমাত্র বদলাতে পারেন কাশ্মীরের মানুষ।" কোনও গোপন সমঝোতার ফলে নিজের ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা। তাঁর কথায়, "এর আগে তিন বার জামিন পেয়েছি আমি। এ বারেও ছাড়া পেয়েছি আইন মেনেই।"
দল-মত নির্বিশেষে প্রায় সবাই মাশারতের ঘটনার বিরোধিতা করেছেন। কেন্দ্রের চাপে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার কী পদক্ষেপ করে সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications