চান্নির শপথে রাহুল, নেই প্রাক্তন ‘ক্যাপ্টেন’! প্রাক্তনীর অভিমানেই নতুন মোড় পাঞ্জাবের রাজনীতিতে?
চান্নির শপথে রাহুল, নেই প্রাক্তন ‘ক্যাপ্টেন’! প্রাক্তনীর অভিমানেই নতুন মোড় পাঞ্জাবের রাজনীতিতে?
দীর্ঘ টানবাহানার পর অবশেষে গতকাল সন্ধ্যাতেই ঠিক হয়ে যায় পাঞ্জাবের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের পদত্যাগের থেকে তালিকায় একাধিক নাম উঠে আসলেও একাধিক নামেই আপত্তি উঠতে থাকে সিধু শিবিরের তরফে। শেষ বিকাল পর্যন্তও খবর ছিল পাঞ্জাবের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছে সুখজিন্দর রান্ধাবা।যদি বিকেলের আলো ঢলতেই বদলে যায় নাম। ঠিক হয় ভোটের আগে পর্যন্ত পাঞ্জাবের মসনদে দেখা যাবে দলিত নেতা চরণজিৎ সিং চান্নি।

পাঞ্জাবের কুর্সিতে দলিত নেতা
এদিকে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দলিত-শিখ বসতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের ইস্তফার পর কংগ্রেস চরণজিৎ সিংকেই বেছে নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হিসেবে৷ এদিকে গতকালই রাজ্যপালের বৈঠকে ঠিক হয়ে যায় সোমবার সকাল ১১টার সময় শপথ নেবেন চরণজিৎ। সেই মতো এগোতে থাকে গোটা কার্যক্রম। ইতিমধ্যেই সেই অনুষ্ঠান প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।

দেখা করলেন না ক্যাপ্টেন
এদিকে ৫৮ বছরের এই কংগ্রেস নেতা এর আগে চামকৌর সাহিব থেকে তিনবার বিধায়কও হয়েছেন৷ এদিকে তারপর শপথ গ্রহণ উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই চণ্ডীগড়ে এসে পৌঁছে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এদিকে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে ক্যাপ্টেন অমরিন্দরের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন চান্নি। এমনকী তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে তাঁর কাছে পৌঁছানোরও চেষ্টা করেন তিনি। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন তিনি দেখা করবেন না।

দলিত ভোটেই সাজছে ঘুঁটি
এদিকে বছর ঘুরতেই ভোট রয়েছে পাঞ্জাবে। তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে এই রদবদল সাড়া ফেলেছে পাঞ্জাব সহ দিল্লির রাজ্য-রাজনীতিতে। এদিকে ভোটের কথ মাথায় রেখেই দলিত নেতাকে পাঞ্জাবের কুর্সিতে বসিয়েছে কংগ্রেস। এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।এদিকে পরিসংখ্যান বলছে বর্তমানে রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশই দলিত। দোয়াবা, জলন্ধর, হোশিয়ারপুর, এসবিএস নগর এবং কাপুরথলা জেলায় দলিতদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানের চন্নির মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসা আগামীতে কংগ্রেসের জন্য লাভজনকই হতে পারে।

নজরে ভোট
এদিকে পাঞ্জাব ভোটে বিজেপি মায়বতীর বসপা-র সঙ্গে জোট বাঁধছে। কংগ্রেসের আশা, চন্নি মুখ্যমন্ত্রী হলে সেই দলিত ভোট আর বিজেপি জোটের দিকে যাবে না। এদিকে সিধু শিবির ও ক্যাপ্টেন শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে গোটা ঘটনার সূত্রপাত হলেও সিধু শিবিরের প্রথম পছন্দ ছিল সুখজিন্দরই। তবে চন্নির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। আর এই কারমেই অমরনিন্দর তাঁর শপথ গ্রহণে এলেন না বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications