মায়াবতীকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রস্তাব! রাহুল গলায় এবার আক্ষেপের সুর
বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতীকে শুধু জোট প্রস্তাবই নয়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী। কিন্তু ‘বহিনজি’ কোনও কথাই বলেননি। আক্ষেপ ঝরে পড়ল রাহুল গান্ধীর গলায়।
বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতীকে শুধু জোট প্রস্তাবই নয়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী। কিন্তু 'বহিনজি' কোনও কথাই বলেননি। আক্ষেপ ঝরে পড়ল রাহুল গান্ধীর গলায়। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন পর্ব মেটার প্রায় একমাস পর মায়াবতীকে কাঠগড়ায় তুলে বিশেষ বার্তা দিলেন রাহুল।

রাহুল গান্ধী শনিবার বলেন, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। সে জন্য তিনি মায়াবতীর দিকেই অভিযোগের তির ছোড়েন। বিএসপি প্রধানকে নিশানা করে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, মায়াবতীজি সিবিআই, ইডি এবং পেগাসাসের কারণে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রতি সদয় ছিলেন।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৪০৩টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটি আসন জিতেছে এবং উত্তরপ্রদেশে ২.৫ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থীদের প্রায় ৯৭ শতাংশ তাঁদের জামানত হারিয়েছে। আর বিজেপি ক্ষমতা ধরে রেখেছে। আসন কমলেও তাঁদের ভোটের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বিএসপি মাত্র একটি আসনে জিতেছে। কিন্তু প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদেরও প্রায় ৭২ শতাংশ প্রার্থী এবার নির্বাচনে তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। এ রাজ্যের নির্বাচন বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টির মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছিল।
এদিন 'দলিত সত্য' নামে একটি বই প্রকাশ করে রাহুল গান্ধী বলেন, সংবিধান একটি অস্ত্র। কিন্তু সংস্থাগুলি ছাড়া এটি অর্থহীন। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান আরএসএস-এর দ্বারা বন্দি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলি যদি জনগণের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়, দেশে সংবিধানের গুরুত্ব থাকবে না। কংগ্রেস নেতা বলেন, "এটি নতুন আক্রমণ নয়। এটি সেই দিন শুরু হয়েছিল, যেদিন মহাত্মা গান্ধীকে বুলেট দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।"
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, তিনি কোনও অর্থ নিলে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারতেন না। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই এবং ইডি রাজনৈতিক ব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে্। কোনও শক্তিই তাঁকে লড়াই থেকে থামিয়ে দিতে পারবে না। কারণ তিনি লড়াই করবেন জনগণের জন্য। কেননা সংবিধান জনগণের হাতেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে গিয়েছে।
রাহুল বলেন, উত্তরপ্রদেশে দলিতদের সমর্থনে যিনি আওয়াজ তুলেছিলেন, সেই বিএসপি পিতৃপুরুষ কাঁসিরামের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। যদিও কংগ্রেস সেই পর্বে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তবুও তিনি দলিতদের জন্য আওয়াজ তুলেছিলেন। কিন্তু মায়াবতীজি বলছেন, আমি এর জন্য লড়াই করব না। কারণ এ পথে সিবিআই, ইডি এবং পেগাসাস রয়েছে।
প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধান আরও বলেন, মানুষের কথা বলতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাধীনতা দিতে হবে। সংবিধান অনুসরণ করে তলতে হবে। এটি ভারতের বাস্তবতা। যখন সংবিধান ভূলুণ্ঠিত হয়, দুর্বলরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দলিত, সংখ্যালঘু, উপজাতি, বেকার, ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্ররা বিপাকে পড়েন। তিনি বি আর আম্বেদকর এবং মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথে দলিত-সংখ্যালঘু এবং আপামর মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংবিধানের স্থপতি আম্বেদকর মানুষকে অস্ত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ সেই অস্ত্রের কোনও মানে নেই। কারণ মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে রাহুল গান্ধী বলেন, "এখন লড়াই করার সময়।" আম্বেদকর এবং গান্ধী একটি পথ দেখিয়ে গিয়েছেন। তবে আপনাকে সেই পথে হাঁটতে হবে। একটি উপায় আছে, তবে আপনাকে সেই পথে চলতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications