রাফালে বাস্টিল ডে-র টিকিট দিয়েছে মোদীকে! মণিপুর হিংসা প্রসঙ্গে একহাত রাহুলের
যখন মণিপুর জ্বলছে, রাফালে নিয়ে বাস্টিল ডে-র টিকিট পেয়ে তিনি ফ্রান্স সফর করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফ্রান্সে গিয়ে তিনি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কথা বলছেন অথচ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে তিনি স্পিকটি নয়। মণিপুর নিয়ে একটা কথা তিনি উচ্চারণ করেননি বলে অভিযোগ রাহুল গান্ধীর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একহাত নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বা বাস্টিল ডে-র টিকিট পেয়েছে রাফালে কিনে। সেখানে গিয়ে প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গে গালভরা কথা বললেও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাঁর মুখে কথা নেই। টুইটারে রাহুল মণিপুর হিংসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা করেন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু তিনি মণিপুর নিয়ে একটি শব্দও বলেননি। যখন মণিপুরে জাতি দাঙ্গা চলছে, সরকার তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না, তখনও তিনি কেন নীরব, সেই প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল গান্ধী।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে টুইটে লেখেন, "মণিপুর জ্বলছে। ইইউ পার্লামেন্ট ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী একটি কথাও বলেননি! এদিকে, রাফালে তাকে ব্যাস্টিল ডে প্যারেডের টিকিট দিয়েছে, তিনি তা নিয়েই বেজায় খুশি।
রাহুল ছাড়া কেন্দ্রকে নিশানা করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও। মণিপুরের পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারকে আক্রমণ করছেন। রমেশ বলেন, "১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রিচার্ড নেলসন 'দ্য মুন অ্যান্ড দ্য ঘেটো' নামে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন।

তাঁর কথায়, ভারতের বর্তমান পরিস্থিততে তা প্রাসঙ্গিক। নেলসন সেই প্রবন্ধে লিখেছিলেন-- প্রযুক্তিগতভাবে গতিশীল আমেরিকা চাঁদে মানুষকে অবতরণ করাতে সক্ষম, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ শহরগুলিতে তার সমস্যাগুলি অর্থপূর্ণভাবে সমাধান করতে অক্ষম আমেরিকা।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ তার সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতি বিবেচনা করা বলেন, "আমরা চাঁদে যেতে পারি কিন্তু আমাদের লোকেরা বাড়িতে যে মৌলিক সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয়, তা মোকাবেলা করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক। নেলসনের প্রবন্ধের একটি ভারতীয় সংস্করণ হতে পারে- 'দ্য মুন এবং মণিপুর'।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি এ প্রসঙ্গে বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এই ধরনের হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য নয়। মণিপুর প্রায় দু-মাস ধরে জ্বলছে। হিংসা সংঘর্ষের সাক্ষী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কুকি এবং মেইতি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে লড়াই। সরকার হিংসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলগুলোর।












Click it and Unblock the Notifications