নরেন্দ্র মোদী আর গৌতম আদানি একই! আদানি গোষ্ঠীকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে তুলনা রাহুল গান্ধীর
সংসদে মোদী ও আদানির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পাননি রাহুল গান্ধী। উপরন্তু রাজ্যসভায় দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগের করা যাবতীয় মন্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কংগ্রেস এনিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেবে।
দেশের সম্পদ আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেসের প্নেনারিতে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনটাই অভিযোগ করলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। যেভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল, ঠিক তেমনই করা হচ্ছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রায় ১৭ হাজার প্রতিনিধির সামনে রাহুল গান্ধীর বক্তৃতা ছিল ভারত জোড়ো যাত্রা আর আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে।

মোদী আর আদানি এক
রাহুল গান্ধী বলেছেন নরেন্দ্র মোদী আর গৌতম আদানি একই। এই কারণেই সংসদে আদানিকে নিয়ে কোনও প্রশ্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, বলেছেন ওয়ানাডের সাংসদ। রাহুল বলেন, যখন সংসদে জিজ্ঞাসা করা হয় আদানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক কী, তখন সেই বক্তৃতার পুরোটাই বাদ দেওয়া হয়। এব্যাপারে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আদানিকে নিয়ে প্রশ্ন করা চালিয়ে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।

মোদী আর আদানির মধ্যে কী সম্পর্ক
লোকসভায় তিনি যেসব প্রশ্ন করেছিলেন, সেইসব প্রশ্ন দলের নেতাদের সামনেই তুলে ধরেন রাহুল। তিনি বলেন, আদানি কীভাবে বিশ্বের ধনীদের তালিকায় ৬০৯ থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠলেন, ভারতের বিদেশনীতি কীভাবে ইজরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মতো দেশে আদানি গোষ্ঠীকে সাহায্য করেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন করেছিলেন। রাহুল গান্ধী প্রশ্ন করেছেন, কেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এক ব্যবসায়ীকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হল? তিনি (রাহুল) তো মোদীজি এবং আদানিজির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। এর সহজ উত্তর হতে পারত, কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু তা করা হয়নি।

আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তুলনা
যারা আদানি গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছেন, তাদের উদ্দেশ্য করে রাহুল বলেছেন এই গোষ্ঠী দেশের ক্ষতি করছে, দেশের পরিকাঠামো দখল করে নিচ্ছে। তিনি বলেছেন, ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে আন্দোলন দিয়ে। সেটাও একটা কোম্পানি ছিল। এখানে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর বিরুদ্ধে কংগ্রেস আন্দোলন চালাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল জানিয়েছেন, কর্পোরেট গোষ্ঠীর সঙ্গে মোদী সরকারের যোগসূত্র প্রকাশ করতে কংগ্রেস ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

নতুন কর্মসূচির প্রস্তাব
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তরে ভারত জোড়ো যাত্রা হয়েছে। কংগ্রেসের কথা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে তারা সফল। সেদিকে তাকিয়ে লাহুল গান্ধী দলের নেতৃত্বের কাছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে একই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কাশ্মীরে জাতীয় পতাকা বহন করেছেন স্থানীয় যুবকরা
কাশ্মীরে ভারত জোড়ো যাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছেন সেখানকার মানুষজন। সেখানে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। রাহুল গান্ধী বলেছেন, কাশ্মীরে ভারত জোড়ো যাত্রায় জাতীয় পতাকা বহন করেছিলেন সেখানকার যুবকরা। পুলওয়ামা এবং অনন্তনাগের মতো সন্ত্রাস কবলিত জেলাগুলিতেও তা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাহুল।
তিনি এব্যাপারে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। রাহুল বলেছেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি লালচকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পতাকা উত্তোলন আর কাশ্মীরি যুবকদের জাতীয় পতাকা বহনের পার্থক্য তারা করতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী লালচকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ১৫-২০ জন বিজেপির সমর্থককে নিয়ে।

বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যকে কটাক্ষ
রাহুল গান্ধী চিন নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের করা মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন। প্রসঙ্গত জয়শঙ্কর বলেছিলেন, চিনের অর্থনীতি ভারতের থেকে ভাল। এব্যাপারে রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই মন্তব্যের পরে কীভাবে চিনের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে। বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য কাপুরুষতার পরিচায়ক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল বলেন, ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করেছিল, তখন তাদের অর্থনীতি কি আমাদের থেকে ছোট ছিল? আর ভারতের থেকে যদি কেউ শক্তিশালী হয়, তাহলে কি যুদ্ধ করবেন না, প্রশ্ন করেন রাহুল।












Click it and Unblock the Notifications