চাণক্যের টার্গেট ২০২৪-র লক্ষ্যভেদ , সামনের কোনও বিধানসভা ভোটেই থাকছেন না প্রশান্ত কিশোর
চাণক্যের টার্গেট ২০২৪-র লক্ষ্যভেদ , সামনের কোনও বিধানসভা ভোটেই থাকছেন না প্রশান্ত কিশোর
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে প্রশান্ত কিশোরের মাস্টার স্ট্রোক ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে বিজেপির। আরও ৫ রাজ্যের বিধাসভা ভোট সামনে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের ভোট। এই একটি রাজ্যের ভোটেই মোদী সরকারের জনপ্রিয়তার অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে। কিন্তু ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর এই নিয়ে ভাবতে রাজি নন। বাংলায় মমতা সরকারের জয়ের পর বিরতিতে যেতে চাইছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত। ২০২৪-র লোকসভা ভোটের আগে নিজের কূটনৈতিক বুদ্ধিতে শান দিতে অবসরে যেতে চাইছেন তিনি। কারণ গোটা দেশের লড়াইয়ের রণকৌশল ঠিক করতে বেশ কিছুটা অবসর যাপনের প্রয়োজন রয়েছে। সেই অবসর যাপনে যেতে চাইছেন তিনি।

সামনেই ৫ রাজ্যের ভোট
একুশের বিধানসভা ভোটে শুধু বাংলা নয় ৫ রাজ্যে ভোট হয়েছিল। তাতে কেবল মাত্র অসম আর পণ্ডিেচরিতেই জয় পেয়েছে বিজেপি। বাকি গুলিতে জিততে পারেনি। তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় এসেছে ডিএমকে। কেরলে ফের বামেরাই ক্ষমতায় ফিরেছে। আবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরেছে। গোটা দেশের সব রাজ্যে বিজেপি রাজ কায়েম করতে পারেননি মোদী-শাহরা। সামনে আবার আরও ৫ রাজ্যের ভোট। ২০২২ সাল েথকেই শুরু হয়ে যাবে ভোট প্রক্রিয়া। তালিকায় রয়েছে পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ। তারপরে ২০২৩ সালে আবার ত্রিপুরায় ভোট। সব মিলিয়ে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করবে গোটা দেশে।

প্রশান্ত কিশোরের রণকৌশল
বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পরেই প্রশান্ত কিশোর ঘোষণা করেছিলেন তিনি আর রাজনীতিতে থাকছেন না। তার পরেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং এবং শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এমনকী গান্ধী পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাত করেছিলেন তিিন। তাতেই জল্পনার পারদ চড়েছিল। কারণ গত নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের হার হয়েছিল।সেই হারেরপর প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কংগ্রেসের। চার বছর পর তিন গান্ধী সোনিয়া, রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে। তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাত করেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এবং ২০২৪-র ভোটের আগে বিরোধী ঐক্যের কথা বলেন। সবটাই প্রশান্ত কিশোকের কূটনৈতিক চাল বলে মনে করছিল রাজনৈতিক মহল কারণ ২০২৪-র লোকসভা ভোট পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের উপদেষ্টা হয়ে থাকছেন প্রশান্ত কিশোর। ়

রাজনীতি থেকে বিরতি
এরই মধ্যে আবার জল্পনা শুরু হয়েছিল প্রশান্ত কিশোর নাকি কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে নাকি কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়াবেন তিনি। সেইজল্পনা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর নিেজই। অমরিন্দর সিংয়ের উপদেষ্টার পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে সামনের ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কোনও ভাবেই থাকছেন না।আগামি কয়েক বছর তিনি এর থেকে দূরে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেেসর জয়ের পরেই ভোট কৌশলীর পদ থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ত্রিপুরায় সক্রিয় ছিল তাঁর সংস্থা আইপ্যাকের কর্মীরা। তিনি জানিয়েছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন তিনি। বাংলার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রস্তাব তাঁকে নতুন করে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

টার্গেট ২০২৪
একুশের ভোটে বাংলায় বিেজপির পরাজয়ের পরেই অবিজেপি দলগুলি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই জোর দিয়েছেন ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে মোদীকে গতিচ্যুত করতেই হবে। আর সেই ২০২৪-কে টার্গেট করেই বিরতিতে যাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। এখন আর ছোট কোনও নির্বাচনে তিনি মাথা ঘামাবেন না। কারন চব্বিশের বড় লক্ষ্য জয় করতে হলে বুদ্ধিতে শান দেওয়া আরও জরুরি। সেখানকার পিচ আরও কঠিন। কাজেই সামনের ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের কোনও বুদ্ধি খরচ করতে রাজি নন ভোটকুশলী। বড় লক্ষ্যের দিকেই মন দিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications