নরেন্দ্র মোদী নয়, প্রধানমন্ত্রী পদে দিদি সমর্থন দেবেন আম্মাকে

'টাইমস নাও' চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, "আমি নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করব না। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমরা সমর্থন করতে পারি না। গুজরাতে কী হয়েছিল, তা কি আপনারা জানেন না? ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে অনেক ভাষা, জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস এক সঙ্গে রয়েছে। সব ধর্মকে আমাদের সম্মান করতে হবে।" নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করতে গিয়ে এখানেই থামেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেছেন, "গুজরাত দাঙ্গার পর আমরা মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ দাবি করেছিলাম। সংশ্লিষ্ট সরকারকে খারিজেরও দাবি জানিয়েছিলাম। তৃণমূল কংগ্রেস সংসদে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।"
কিন্তু গত মাসে কলকাতার ব্রিগেডের জনসভায় নরেন্দ্র মোদী যে আপনার প্রশংসা করলেন? মমতার জবাব, "এটা খুব সুচতুরভাবে উনি করেছেন। যা বলেছেন, তার মর্ম হল, আপনি আপনার রাজ্যে থাকুন। রাজ্য ছেড়ে বেরোবেন না। আমি বলছি, উনি যদি কলকাতায় আসতে পারেন, তা হলে আমিও দিল্লি যেতে পারি।" তা হলে আপনি কি প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন? মমতার উত্তর, "আমি আমার সীমাবদ্ধতার কথা জানি। ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর মানুষই ঠিক করবেন।"
এর পর তাঁর মন্তব্য, এআইএডিএমকে সুপ্রিমো জয়ললিতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে কোনও আপত্তি নেই। বরং তাঁকে সমর্থনও করবেন। এমনকী, মায়াবতী প্রধানমন্ত্রী হলেও তাঁকে সমর্থন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি শুধু মানুষের কথা ভাবেন। কুর্সির কথা নয়।
কিন্তু জয়ললিতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যদি আপনার সংঘাত বাধে? মমতা বলেছেন, "অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। কে বলল, এক সঙ্গে কাজ করতে পারব না? করতেই পারি। ঋজু ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি মানেই সংঘাত বাধবে, এমনটা নয়।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কথাকে অবশ্য উদ্বাহু সমর্থন জানিয়েছে এআইএডিএমকে।
অর্থাৎ একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল। তা হল, ভোটের পর বিজেপি-র সঙ্গে ঘর করবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি-র আশা ছিল, নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গড়তে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সাহায্য চাইবে। এবার তাদের অন্য শরিকের সন্ধান করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications