মায়ের ভূমিকায় জোর নয়, নাবালিকার ৩০ সপ্তাহের গর্ভপাতের অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট
নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া যায় না, বিশেষত যখন সে নাবালিকা। এই স্পষ্ট বার্তাই দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত ৩০ সপ্তাহের গর্ভধারণের মেডিকেল টার্মিনেশন অনুমোদন করেছে এক নাবালিকা কিশোরীর ক্ষেত্রে, যিনি নিজের ইচ্ছায় গর্ভধারণ বহাল রাখতে চান না।
বিচারপতি বি ভি নাগরথনা সহ দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, এমন মামলায় সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাবে নাবালিকার অধিকার ও তার স্বার্থ। আদালতের পর্যবেক্ষণ কিশোরীটি নাবালিকা থাকাকালীন এক সম্পর্কের ফলে গর্ভবতী হয়েছে। সম্পর্কটি সম্মতিমূলক ছিল কি না, তা এখানে মুখ্য নয়, মূল কথা, সে সন্তান ধারণে অনিচ্ছুক। এই বাস্তবতাই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে।

রায়ে বলা হয়েছে, নাবালিকা হওয়ার কারণে পরিস্থিতিটি আইনগত ও সামাজিক উভয় দিক থেকেই দুর্ভাগ্যজনক। তাই বিচারব্যবস্থার কাজ কোনও নারীর উপর মাতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং তার প্রজনন স্বাধীনতাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে, কোনও নারী যদি গর্ভধারণ সম্পূর্ণ করতে না চান, তাহলে আদালত তাকে বাধ্য করতে পারে না।
এদিন আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মুম্বইয়ের জে জে হাসপাতালেই সব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে গর্ভপাতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে লিখিত সম্মতি জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায় এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট আবারও জোর দিল নারীর প্রজনন অধিকার ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মর্যাদার উপর বিশেষ করে যখন বিষয়টি নাবালিকার ভবিষ্যৎ ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত।












Click it and Unblock the Notifications