নবরাত্রিতে উপবাস মুসলিমদের, রোজা রাখেন হিন্দুরা! সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন যোগী রাজ্যের সংশোধনাগারে
বিদ্বেষ আর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মধ্যেই সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন আগ্রা সংশোধনাগারে। সেখানে মুসলিম বন্দিরা যোগ দেন নবরাত্রি উৎসবে। অন্যদিকে হিন্দু বন্দিরা রমজানের সময় রোজা করেন। প্রসঙ্গত এবছর নবরাত্রি উৎযাপন শুরু হয় ২২ মার্চ আর তার পরেরদিন শুরু হয় রমজান মাস।

কী বলছে জেল কর্তৃপক্ষ
আগ্রা সেন্ট্রাল জেলের ইনচার্জ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের অনেক মুসলিম বন্দি এবার নবরাত্রির উপবাস পালন করেছে। এছাড়া তারা জেলের মধ্যে মন্দিরের সামনে ভজনে অংশ নিয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু বন্দিরা রোজা পালন করছে। তিনি আরও বলেছেন, এটা একটা ভাল নিদর্শন, যেখানে উভয় ঘর্মের বন্দিরা হিন্দু মুসলিম ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন।

প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বন্দিরা
জেল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে এক ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে নওশাদ নামে এক বন্দি জানিয়েছে, এবার নবরাত্রির প্রথম দিনে সে উপবাস রেখেছিল। আবার শেষ দিনেও একটা রাখবে বলে জানিয়েছে। সে আরও বলেছে, জেলের মধ্যে সবাই ঐক্য রেখেই চলেন এবং সকলেই সকলের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান করেন। নিজের প্রসঙ্গে সে জানিয়েছে মন্দিরের ভজনে তাঁরা অংশ নেন এবং হিন্দু বন্দিদের সঙ্গে গানও করেন।

জেলারের প্রতিক্রিয়া
জেলর অলোক সিং সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগ্রা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ৯০৫ জন বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন মুসলিম বন্দি এবার নবরাত্রিতে উপবাস করেছিল আর ৩৭ জন হিন্দু বন্দি রোজা পালন করেছে। তিনি আরও বলেছেন, এতে বন্দিদের মধ্যে ইতিবাচক দিক আসে। এছাড়া তাঁরা অনুপ্রাণিতও হয়। তিনি আরও বলেছেন, যখন বিভিন্ন ধর্মের বন্দিরা একে অপরের আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, তখন সংহতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টি ফুটে ওঠে।

জেল কর্তৃপক্ষের আয়োজন
সর্বো্পরি জেল কর্তৃপক্ষের আয়োজন সব কিছু পিছনে রয়েছে। নবরাত্রির উপবাসে বন্দিদের জন্য ফল ও দুধের বন্দোব্সত করেছে জেলা প্রশাসন। রোজা পালনকারীদের রোজা ভাঙার সময়ের জন্যও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ বন্দিদের জন্য ভাগবত কথারও আয়োজন করেছে। ৩১ মার্চ জেলের মধ্যেই ভাণ্ডারার আয়োজন করা হবে। এরইসঙ্গে কারাগারের বন্দিদের কল্যাণে কাজ করা একটি সামাজিক সংগঠন জানিয়েছে, জেল হল ধর্মীয় উৎসব এবং আচার অনুষ্ঠান বিনিময়ের উপযুক্ত জায়গা।
ছবি সৌ:পিক্সেলস












Click it and Unblock the Notifications