কলেজে হিজাব পরা শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না! বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, প্রতিবাদে পড়ুয়ারা
কলেজে হিজাব পরা শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না! বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, প্রতিবাদে পড়ুয়ারা
বৃহস্পতিবার একটি সরকারি কলেজের মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পড়া নিয়ে কলেজের গেটে প্রতিবাদ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের উড়ুপি জেলায়।

আলিয়া নামের একজন ছাত্রী একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, 'আমরা হিজাব পড়ে কলেজে এসেছিলাম, কিন্তু আমাদের ক্লাস রুমে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। হিজাব পড়ার জন্য ২০ দিন আমাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।' অপর এক ছাত্রী জানান, 'সংবিধানে আমাদের হিজাব পরার অধিকার আছে, তাহলে তা কলেজ কেন তা বন্ধ করছে?’
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জেলা আধিকারিকরা ছাত্রীদের হিজাব না পড়ার জন্য হুশিয়ারি দেন। কারণ, তাঁদের মতে হিজাব স্কুল ইউনিফর্মের মধ্যে পড়ে না। তাঁরা ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু স্কুল ড্রেস পড়ুন না হলে বাড়ি যান।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশ জানান, কলেজে হিজাব পড়া শৃঙ্খলাবিহীন। স্কুল ও কলেজ ধর্ম পালন করার জায়গা নয়। আর এটি বলার পরই শুরু হয় ছাত্রীদের বিক্ষোভ। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ।
ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন। ঘটনার জন্য শিক্ষাথীদের সমর্থন করছে PFI সংস্থা। যেটির ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার একটি রেফারেন্স। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কী রাজনীতির জন্য ঘটনাটি ঘটল। না সাংবিধানিক অধিকারের জন্য এমন ঘটনা ঘটল। এমনই প্রশ্ন উঠছে।
শিক্ষাথীরা জানান, তাঁরা ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার অংশ নই। আমরা তাঁদের থেকে কোনও এখন পর্যন্ত আশাতীত ফল পায়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে CFI-এর সাথে যোগাযোগ করেছি বলে জানিয়েছেন আলিয়া।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৮৫ সালে স্কুল ইউনিফর্মের যাবতীয় নিয়ম চালু করা হয়েছিল। আর এই বিক্ষোভ শুরু হয় ১৫-২০ দিন আগে। কলেজের ১০০ জন শিক্ষাথীদের হিজাব পড়া নিয়ে কোনও অসুবিধা ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র কয়েকজন শিক্ষাথীদের জন্য এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হল। তিনি আবারও দাবি করে জানান, স্কুল বা কলেজ ধর্ম পালন করার জায়গা নয়।
পড়ুয়াদের স্কুল বা কলেজে নারীদের ধর্ম পালনের অধিকার লঙ্ঘন করা উচিত কিনা, বা শিক্ষার জায়গায় হিজাব পড়া কোনও নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে কিনা! তীর দিলেন কংগ্রেসের দিকে।
তিনি জানান, কংগ্রেস সরকার যখন ছিলেন তখন তাঁরা নিয়ম মেনে চলত। তাঁরা এখন সাংবিধানিক অধিকার মেনে চলতে চান। তবুও বলব বিশৃঙ্খলা কোনও অধিকারের মধ্যে পড়ে না।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের অভিভাবকরা অনেকবারই কলেজ কর্তৃপক্ষকে হিজাব পরার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা তা মানতে একেবারেই নারাজ। আমরা হিজাব না পড়লে আমাদের অসুবিধা হয়। কারণ, এটা লেডিস কলেজ। কিন্তু এখাণে পুরুষ টিচারও আছেন। যদি লেডিস লেকচারাররা থাকতেন তাহলে আমাদের অসুবিধা হত না। হিজাব ছাড়া কোনও পুরুষ টিচারের সামনে বসতে আমাদের অস্বস্তি বোধ হয় বলে জনান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সাফা।
আলিয়া নামের ছাত্রীটি জানান, সিনিয়রদের হিজাব পড়ার অনুমতি মিললেও তাঁদের মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। কলেজে ধর্মীয় বৈষম্য তৈরি হয়েছে। আমরা সালাম বলতে পারি না। সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও উর্দুতে কথা বলতে পারি না। আমদের অন্যদের সাথে কথা বলতে স্থানীয় ভাষা টুলু ভাষাতে কথা বলতে হয়। আমরা কোনও অপরাধ করিনি। আমরা শুধু হিজাব পড়তে চাই।












Click it and Unblock the Notifications