তিন তালাক রদের বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রের প্রশংসা নকভির, কতটা ফিরল মুসলিম নারীদের অধিকার
তিন তালাক রদের বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রের প্রশংসায় মুক্তার আব্বাস নকভি
তিন তালাক বিল নিয়ে কেন্দ্রের প্রশংসা সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভির। তাঁর কথায় প্রথা রদ হওয়ায় বর্তমানে গোটা দেশে তিন তালাকের পরিমাণ প্রায় ৮২ শতাংশ কমেছে। সুরক্ষিত হয়েছে মুসলিম নারীদের অধিকার। গতবছরই দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পরেই তিন তালাককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করেন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার।

ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য হয় তিন তালাক
যদিও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি। সংখ্যালঘু বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামে অনেক সংগঠনই। এদিকে দীর্ঘ আলোচনার পরেও বিরোধীদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও গত বছর জুলাইয়ে রাজ্যসভায় পাস হয় মুসলিম নারী( অধিকার ও বিবাহ) সুরক্ষা বিল, ২০১৯। ৯৯-৮৪ ভোটে পাশ হয় এই বিল। যার জেরে তারপর থেকেই তাৎক্ষণিক তিন তালাক ভারতীয় আইনে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

১ লা অগাস্টকে মুসলিম নারীদের অধিকার দিবস হিসাবে আখ্যা
তিন তালাক রদের বর্ষপূর্তিতে এদিন কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান মুক্তার আব্বাস নাকভি। গত বছর অগাস্টের শুরু থেকেই কার্যকর হয় এই আইন। পাশাপাশি এদিন সেই ১ লা অগাস্টকে মুসলিম নারীদের অধিকার দিবস হিসাবেও অখ্যায়িত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে এদিন তাকে আরও বলতে শোনা যায়, " তিন তালাক রদের বিরুদ্ধে আইন পাস হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেছে। এই আইনের জেরে বর্তমানে গোটা দেশে তিন তালাকের মামলায় প্রায় ৮২ শতাংশ হ্রাসও পেয়েছে।"

কী বলা হয়েছিল নতুন আইনে ?
কেন্দ্রর নতুন আইন অনুযায়ী লিখিত বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক-ই-বিদাত) অবৈধ। তাৎক্ষণিক তিন তালাক একটি ফৌজদারি অপরাধ যার জেরে ৩ বছরের জেল ও জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি যে মুসলমান মহিলাকে তাঁর স্বামী এই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তালাক দিয়েছেন তিনি তাঁর বিচ্ছিন্না স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নির্ধারিত খোরপোষ দিতে বাধ্য থাকবেন। এছাড়াও, নাবালক সন্তানদের হেফাজতে রাখার অধিকারও পাবেন স্ত্রী ।

সত্যিই কি পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে তিন তালাক প্রথা ?
যদিও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা নতুন আইনকে অগ্রাহ্য করে প্রচলিত ধারাকে অব্যাহত রয়েছে অনেক গ্রামেই। তাতে মদত দিচ্ছে মাতব্বরেরা। একইসাথে তিন তালাক আইনকে চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের শেষেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মুসলিম পার্সোনাল ল'বোর্ড। এর আগে মুসলিম নারী (বিবাহ-জনিত অধিকারের সুরক্ষা) আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত বছরের অগাস্টে 'অল কেরালা জামিয়াতুল উলেমা'র তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল বলেও খবর।












Click it and Unblock the Notifications