হাসপাতালে কোভিড রোগীর দেহ অদল বদল, প্রিয়জনের শেষকৃত্য করতে পারল না দুই পরিবার
করোনা ভাইরাসে কোনও রোগীর মৃত্যু হলে তাঁর দেহ পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া হয় প্লাস্টিক দিয়ে। যার ফলে পরিবারের লোকেরা প্রিয়জনের মুখ দেখতে পারে না। আর সেক্ষেত্রে মৃতদেহ অদল বদল হয়ে যাওয়ার ঘটনা বহু ঘটছে এই সময়। এরকমই আরও একটি ঘটনা ঘটল দিল্লিতে। যেখানে হিন্দুর দেহ চলে গেল কবরস্থানে ও মুসলিমের দেহ এসে পৌঁছাল শ্মশানে।

নাসরিনের (নাম বদল) পরিবারকে ৭ জুলাই এইমস ট্রমা সেন্টার থেকে জানানো হয় যে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে নাসরিনের। পরিবারের মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে সাতজন সদস্য সকাল আটটায় হাসপাতালে চলে আসেন দেহ নেওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁদের বলা হয় যে তাঁরা কবর দেওয়ার প্রস্তুতি সারুক কারণ নাসরিনের দেহ এখনও সঠিকভাবে ঢাকার বন্দোবস্ত করা হয়নি। নাসরিনের ভাই তাঁর বোনের মুখ দেখতে চাইলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে একমাত্র সমাধিস্থানে গিয়েই তাঁরা মৃতদেহের মুখ দেখতে পারবে। একদিকে যখন নাসরিনের পরিবারের সাত সদস্য ট্রমা সেন্টারে অপেক্ষা করছেন অন্যদিকে দিল্লি গেটের কবরস্থানে চলছে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি।
দুপুরবেলা নাগাদ অন্য কোভিড মৃতদেহের মতোই প্লাস্টিকে মোড়া নাসরিনের দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। শেষকৃত্যের আগে নাসরিনের তিন সন্তান ফের মায়ের মুখ দেখার জন্য জেদ করে। নাসরিনের ভাই বলেন, 'দিল্লি গেটের সমাধিস্থানের কর্মীদের আমরা বলি যে ৫০০ টাকা নিয়ে মুখ দেখতে দেওয়া হোক। এরপর যখন আমরা বোনের মুখ দেখার জন্য প্লাস্টিক সরালাম, আমরা অবাক হয়ে গেলাম। ওটা নাসরিনের দেহ ছিল না। ওটা আরতি বলে (নাম পরিবর্তন) এক হিন্দু পরিবারের মেয়ের দেহ ছিল।' নাসরিনের পরিবারকে জানানো হয় যে ভুলবশত এটা হয়েছে এবং তাঁরা এক ঘণ্টার মধ্যে সঠিক দেহ পেয়ে যাবে। সাতজন সদস্য পরিবারের কবরস্থানেই অপেক্ষা করতে থাকেন কিন্তু একঘণ্টা পরও নাসরিনের দেহ এসে পৌঁছায় না। এরপর তাঁরা যখন হাসপাতালে যান সেখান থেকে বলা হয় যে নাসরিনের দেহ হিন্দু পরিবার শ্মশানে নিয়ে গিয়েছে।
হিন্দু পরিবার ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবি বাগ শ্মশানে নাসরিনের দেহ পুড়িয়ে দেন এবং পরে তাঁরা জানতে পারেন যে ওই দেহটি তাঁদের মেয়ের দেহ ছিল না।
এইমসের ট্রমা সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হাসপাতালের মর্গের এক কর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়েছে এবং অন্য কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দু'টি কোভিড রোগীর দেহ ওলট পালট হয়ে যাওয়ার পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি দেখা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications