সুপ্রিম ধাক্কা মমতার, পেগাসাস স্নুপিং রো নিয়ে তৃণমূল সরকারের প্যানেল তদন্তে স্থগিতাদেশ
সুপ্রিম ধাক্কা মমতার, পেগাসাস স্নুপিং রো নিয়ে তৃণমূল সরকারের প্যানেল তদন্তে স্থগিতাদেশ
পেগাসাস ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শুক্রবার ১৬ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক গঠিত বিচারপতি লোকুর কমিশনের পেগাসাস স্নুপিং মামলার তদন্তে স্থগিতাদেশ জারি করেছে। প্রধান বিচারপতি এনভি রমনার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মমতার সরকারের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ জারি করে।

এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সুপ্রিম কোর্ট যখন একটি স্বাধীন কমিটির দ্বারা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কমিশন গঠনের কী দরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের এই পদক্ষেপে বিরক্তি প্রকাস করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেন প্রধান বিচারপতি।
গত অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্ট পেগাসাস স্নুপিং রো তদন্তের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। এদিন মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, কোনও ব্যক্তির উপর নির্বিচারে গুপ্তচরবৃত্তির অনুমতি দেওয়া যাবে না। ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করে অবৈধ নজরদারি চালাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার তদন্ত চালানোর জন্য বিশেষ দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। এরপর আলাদা করে কমিশন গঠনের দরকরা নেই।
ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করে অবৈধ নজরদারি চালানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার প্রাক্তন বিচারপতি এমবি লোকুরের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্যানেল গঠন করেছিল। এদিন সেই কমিশনের তদন্তেই স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এনজিও গ্লোবাল ভিলেজ ফাউন্ডেশনের দায়ের করা আবেদনের জবাব চেয়ে কমিশনকে একটি নোটিশও জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এমভি রমনা এই শুনানি চলাকালীন বাংলার সরকারের কৌঁসুলি অভিষেক মনু সিংভিকে বলেন, "এটা কী? গতবার আপনি রেকর্ডে বলেছিলেন যে আমরা কিছুই করছি না। এখন, আপনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।" এর উত্তরে সিংভি বলেন: "আমি বলেছিলাম রাজ্য সরকার কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে না। আমরা কমিশনকে জানিয়েছি সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় না আসা পর্যন্ত কিছু না করার জন্য। এই আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত কমিশন কিছুই করেনি।"
পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিতর্ক কী? একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া কনসোর্টিয়ামের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাসের মাধ্যমে হ্যাকিংয়ের জন্য দুই মন্ত্রী, ৪০ জনেরও বেশি সাংবাদিক, তিনজন বিরোধী নেতা, কর্মী এবং ভারতের একজন বর্তমান বিচারক-সহ ৩০০টিরও বেশি মোবাইল ফোন নম্বরকে টার্গেট করে আড়ি পাতে।
কেন্দ্রীয় সরকার এই ইস্যুতে স্বচ্ছ নয় বলে অভিযোগ করে বিরোধীরা। স্পাইওয়্যারটি ভারতীয়দের উপর আড়িপাতার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে। সংসদের বাদল অধিবেশন পেগাসাস ইস্যুতে প্রভাবিত হয়। বিরোধীরা এনডিএ সরকাররের আলোচনা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনে।












Click it and Unblock the Notifications