বর্ষবরণের রাতে আশঙ্কা খলিস্তানি জঙ্গি হামলার, উচ্চ সতর্কতা জারি মুম্বইতে
বর্ষবরণের রাতে আশঙ্কা খলিস্তানি জঙ্গি হামলার, উচ্চ সতর্কতা জারি মুম্বইতে
একে তো করোনা আতঙ্ক, তার ওপর আবার অন্য আতঙ্ক গ্রাস করেছে মুম্বইকে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর রয়েছে, বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের ওপর হামলা চালাতে পারে খলিস্তানী জঙ্গি সংগঠন। যে কারণে মুম্বই পুলিশ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমস্ত পুলিশ কর্মীদের যাবতীয় ছুটি বাতিল করেছে। ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়ে গিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ করে মুম্বইয়ের জনবহুল এলাকায় অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের জেরে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে মুম্বই জুড়ে। বৃহস্পতিবার মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে ৭ জানুয়ারী, ২০২২ পর্যন্ত মুম্বইতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধির কারনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নববর্ষ উদযাপনের জন্য মানুষের ব্যাপক জমায়েত এবং পার্টিগুলিকে সীমাবদ্ধ করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন নির্দেশে, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত রেস্তোরাঁ, হোটেল, বার, পাব, রিসর্ট এবং ক্লাব সহ যে কোনও বন্ধ বা খোলা জায়গায় অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ থাকবে।
জানা গিয়েছে, মুম্বই পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আছে যে বেশ কয়েকজন খলিস্তানী জঙ্গি মুম্বই শহরে নাশকতা চালাতে পারে। আর এ জন্যই ৩১ ডিসেম্বর, শুক্রবার মুম্বই পুলিশ কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি বা যে কোনও ধরনের বিশেষ ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এই ঘোষণা করেছে মুম্বই পুলিশ। এদিকে, মুম্বই রেলওয়ের পুলিশ কমিশনার কাসির খালিদ জানিয়েছেন, মুম্বইতে অ্যালার্ট জারি হওয়ায় শহরের বড় স্টেশনগুলিতে আগামীকাল ৩ হাজার জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবে। মুম্বই, দাদর , বান্দ্রা , চার্চগেট, সিএসএমটি,কুরলা সহ বাকি স্টেশনগুলিতে কড়া পুলিশি বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, মুম্বই শহর একাধিকবার নাশকতার সাক্ষী থেকেছে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে মায়ানগরীতে সে ধরনের কোনও ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি।
এই আতঙ্কের পাশাপাশি মুম্বইতে করোনা আতঙ্ক নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। ওমিক্রন সংক্রমণও বাড়ছে লাফ দিয়ে। এরকম অবস্থায় বর্ষবরণের সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল করেছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, দেশের ২২টি রাজ্যে ছড়িয়েছে ওমিক্রন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৮০ জন। এই নিয়ে দেশে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯৬১। দিল্লিতে সবথেকে বেশি ২৬৩ জন আক্রান্ত। মহারাষ্ট্রে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ২৫২। দিল্লির পর দেশের যে রাজ্যে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেই রাজ্যটি হল মহারাষ্ট্র। এরই মধ্যে মুম্বইয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চিন্তায় পড়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সবাইকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications