মোড় ঘুরছে ভারতের রাজ্য-রাজনীতির! ২০২০ সালে নেটিজেনদের সার্চ তালিকায় শীর্ষে কোন নেতা-নেত্রী?
২০২০ সালে কোন রাজনীতিবিদদের সবথেকে বেশি খুঁজল নেটিজেনরা
সিএএ হোক বা কৃষি আইন, বিধানসভা নির্বাচন হোক বা উপ নির্বাচন, ২০২০ সালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একধিক ইস্যুতে বারংবার উত্তাল হয়েছে ভারতের রাজ্য-রাজনীতি। একাধিক ইস্যুতে চড়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। শাসক হোক বা বিরোধী প্রতিটি দলের নেতা-মন্ত্রীরাই বছরভর করে চলেছেন একাধিক মন্তব্য। ফলস্বরূপ কেউ উঠেছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে, কেউ নেমে গিয়েছেন তলানিতে। আজ একনজরে জেনে নেওয়া যায় ২০২০ সালে ইয়াহু ইণ্ডিয়ার শীর্ষ ১০ সার্চ তালিকায় কোন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা রয়েছে।

সকলকে ছাপিয়ে ১ নম্বরে জ্যোতিরাদিত্য
চলতি বছরেই মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক ময়দানে একধিক বরসড় উত্থান-পতন দেখা যায়। এই বছরের মার্চেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। পড়ে যায় কমলনাথ সরকার। পরবর্তী উপনির্বাচনেও বিজেপি নেতা শিবরাজ সিং চৌহান ও জ্যোতিরাদিত্যের নেতৃত্বে গোটা রাজ্যেই ভালো ফল করে পদ্ম শিবির। ইয়াহু ইণ্ডিয়ার সার্চ তালিকায় এই বছর ১ নম্বরে রয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য।

বিতর্ক বাড়িয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে সোনিয়া
অন্যদিকে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত হোক বা বিহার নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি, প্রতি ক্ষেত্রে উঠে এসেছে সোনিয়র নাম। এমনকী কংগ্রসের স্থায়ী সভাপতি পদ থেকে রাহুল গান্ধী সরে দাঁড়ানোর পর থেকে সোনিয়ার আগামী কর্মকাণ্ড নিয়েও জোরদার জল্পনা শুরু হয়। যদিও বর্তমানে তিনি অন্তবর্তী সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও পূর্ণ মেয়াদের সভাপতির দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছেন বলেই জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি চলতি বছরেই ইউপিএ জোটের প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সোনিয়া।

নজর কাড়ছেন নির্মলাও
এদিকে ইতিমধ্যেই চলতি বছরের ফোর্বসের বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ক্ষমতাবান নারীর তালিকায় নাম উঠেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের। ২০২০ সালের ইয়াহু ইণ্ডিয়ার সার্চ তালিকায় সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নির্মলা। জ্যোতিরাদিত্য, সোনিয়ার পর ইয়াহুতে নির্মলাকেই সবথেকে বেশি মানুষ খুঁজেছেন বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি করোনাকালীন আর্থিক সঙ্কট ঠেকাতে মোদীর আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম রূপকার হিসাবেও উঠে এসেছে নির্মলার নাম।

৬ রয়েছেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়
এদিকে ২০২০ সালের শুরু থেকেই বিষাদের ছায়া প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই। চলতি বছরেই ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমণ করেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এদিকে রাষ্ট্রপতি হবার আগেও কংগ্রেসী রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘদিন থেকেই নিজেরে প্রভাব জারি রেখেছিলেন প্রণব। একইসাথে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রীত্বের বাসনা নিয়েও একই সময়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রণব। এবারের ২০২০ সালে নির্মলা সীতারমণের পরেই সব থেকে বেশি লোক খোঁজ করেছেন প্রণবেরই।

বাদ যাননি মমতাও
নাম হচ্ছে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের আর সেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম থাকবে না তা কী হয়। খানিকটা পিছনে হলেও ইয়াহু ইয়ার ইন সার্চ বলছে চলতি বছরে ভারতীয় রাজনাতীবিদদের মধ্যেই প্রণব মুখার্জীর পরেই সর্বাধিক মানুষ খোঁজ করেছে মমতা বন্দোপাধ্যায়। তবে শুধু ২০২০ নয় আগামী বছরেও যে এই ধারা অব্যাহত থাকবে তা বর্তমানে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপের বাড়বাড়ন্ত থেকেই স্পষ্ট। কারণ সামনের বছরেই বিধানসভা ভোট বাংলা। তার আগে রীতিমতো জমে উঠেছে বিজেপি-তৃণমূল টক্কর।

কেজরির নেতৃত্বেই দিল্লি বিধানসভায় বড় জয় আপের
মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পরেই এই তালিকায় রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। করোনা সঙ্কট হোক মোকাবিলা হোক বা রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মসূচী একাধিক ক্ষেত্রে ছাপ রেখেই চলেছেন কেজরি। পাশাপাশি চলতি বছরে কেজরির নেতৃত্বেই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পা আম আদমি পার্টি। কার্যত হাজারো চেষ্টা সত্ত্বেও ধরাশায়ী হয় পদ্ম শিবির।

৭ নম্বরে রয়েছে উদ্ধব ঠাকরে
কেজরীর পরেই এই তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছে উদ্ধব ঠাকরে। তার হাত ধরেই মহারাষ্ট্রে সেনা শিবিরের মুখ্যমন্ত্রীত্বের স্বপ্নপূরণ হলেও। এই বছরেই পুরনো শরিক বিজেপির সঙ্গে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে শিবসেনা। এমনকী সুশান্ত সিং মৃত্যু মামলা ঘিরেও উদ্ধব সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে দেখা গিয়েছে নয়া দিল্লিকে। এমনকী আরও একাধিক ইস্যুতে সরাসরি বিপির বিরুদ্ধে সংঘাতে নামতে দেখা যায় শিবসেনাকে।

জনপ্রিয়তার নিরিখে বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ
গতবারে ভালো ফল করলেও সিএএ , এনআরসি বিতর্কের পরই জনপ্রিয়তার নিরিখে বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি রয়েছেন এই তালিকায় নবম স্থানে। এদিকে চলতি বছরে তাঁর কাঁধে ভর করেই বিহার বিধানসভা ভোটের নির্বাচনী বৈতরণী পার করে বিজেপি। ভালো ফল করে মধ্যপ্রদেশ উপনির্বাচনেও। এদিকে বছর ঘোরার আগেই অমিতের চোখ এখন বাংলা। লক্ষ্য ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন।

বড়সড় আশা জুগিয়েও ব্যর্থ রাহুলের ঠাঁই দশে
মন খারাপকে সঙ্গে করে যখন পালা সাঙ্গ হতে চলেছে ২০২০ সালের তখন হাজারো আশা-আকাঙ্কার মাঝেই তালিকায় শেষের দিক থেকে প্রথম হয়েছেন কংগ্রেসের যুবরাজ রাহুল গান্ধী। রয়েছেন দশ নম্বরে। লাদাখ ইস্যু হোক বা করোনা মোকাবিলা, একাধিক ক্ষেত্রে মোদী সরকারকে কার্যত ধুঁয়ে রেখে দিয়েছেন রাহুল। কিন্তু সবই টুইট যুদ্ধে। এদিকে তার নেতৃত্বেই কার্যত বিহার নির্বাচনে বড়সড় আশা যুগিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications