২০০৫ সালে দাউদ ইব্রাহিমকে 'মারার' জন্য গোপন অপারেশন চালিয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা

নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট : একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে কুখ্যাত পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন তথা মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড দাউদ ইব্রাহিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য প্রকাশ করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব আর কে সিং। তিনি বলেন, দাউদকে
ধরে আনার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা একটি গোপন অপারেশন চালায়। [পাকিস্তানের মিথ্যার পর্দা সরল, করাচিতেই বহালে দাউদ, জেনে নিন ঠিকানাও]

ওই সাক্ষাৎকারে আর কে সিং জানান, বাজপেয়ী সরকারের সময় গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ কে ডোভাল। তিনিই এই পরিকল্পনা ছকটি কষেন। ২০০৫ সালে যখন মেয়ের বিয়ের জন্য দাউদ দুবাই যাচ্ছিল তখন তার বিরোধী ছোটা রাজন গোষ্ঠীর সদস্যদের যুক্ত করে দাউদকে আক্রমণের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় বাধা পড়ে যখম মুম্বই পুলিশের একটি দল রহস্যজনকভাবে রাজনের সঙ্গী ভিকি মলহোত্রা এবং ফরিদা তানাশাকে গ্রেফতার করে । [জেঠমালানির দাবি আত্মসমর্পন করতে চেয়েছিল দাউদ, আদবানী-পাওয়ার করতে দেয়নি বলছে ছোটা শাকিল]

২০০৫ সালে দাউদ ইব্রাহিমকে 'মারার' জন্য গোপন অপারেশন চালিয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা

ভিকি এবং ফরিদা দিল্লি গিয়েছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী যাবতীয় কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে। [স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবী, দাউদকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে, ছোটা শাকিলের কটাক্ষ 'লগে রহো মুন্নাভাই]

এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, মুম্বই পুলিশের একটি অংশ দাউদের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেটা দাউদের মুম্বইয়ে মুকুটহীন বাদশা হওয়ার অন্যতম কারণও ছিল বলে জানিয়েছেন আ কে সিং। যেভাবে মুম্বই পুলিশ দিল্লিতে অবতরণ করে দিল্লি পুলিশের সহায়তায় ছোটা রাজনের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বখেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছিল তা তাদের সন্দেহজনক অবস্থানকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করেছিল। [১৯৯৩ থেকে ২০১৫ : মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনাপঞ্জী]

সময়টার জন্যও এই দাবি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। যখন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, কুখ্যাত অপরাধ সিন্ডিকেটের নেতাদের নিয়ে ডোভালের আগ্রহ সরকারের বাইরে প্রায় এক দশক থাকা সত্ত্বেও নষ্ট হয়নি। [ইয়াকুবের ফাঁসির ফল ভুগবে ভারত, হুমকি ছোটা শাকিলের]

গত সপ্তাহে, পাকিস্তানের আধিকারিকদের দাবির জবাবে জানায় 'বৃদ্ধ' ডনের সাম্প্রতিক ছবি তারা প্রকাশ করেছে। এতদিন পর্যন্ত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ১৯৯৩ সালে তোলা ডনের ছবি ব্যবহার করছিল।
পাকিস্তানের কাছে দেওয়া দলিল যাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, পলাতক কুখ্যাত ডনকে প্রতিবেশি দেশ আশ্রয় দিয়েছে, এবং তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়। কিন্তু সেই দলিলেও দাউদের পুরনো ছবিই এতদিন দেওয়া হত। কিন্তু সাম্প্রতিক ছবিতে ডনের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ, বলিরেখা ভারতীয় গোয়েন্দা দফতরের সাফল্যের ছবি তুলে ধরেছে। কারণ ভারতীয় গোয়েন্দা দাউদকে খুঁজে বার করতে পেরেছে সে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। [(ছবি) উচ্চ শিক্ষিত ইয়াকুব মেমনের অপরাধী হয়ে ওঠার কাহিনি]

দাউদের অনুপ্রবেশ, এবং দাউদ সম্পর্কিত সব রকমের কাজে মুম্বই পুলিশের যোগ উঠে এসেছে। কয়েকবছর আগে উইকিলিক্স প্রকাশ করে যে মুম্বই পুলিশের এক সিনিয়র ইন্সপেক্টরের ডনের সঙ্গে যোগ থাকায় তাকে অবশ্যই বরখাস্ত করা হয়েছিল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+