বাড়ছে উদ্বেগ! দেশজোড়া বিতর্কের মাঝেই কোভ্যাক্সিনের বিরোধিতায় ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাড়ছে উদ্বেগ! দেশজোড়া বিতর্কের মাঝেই কোভ্যাক্সিনের বিরোধিতায় ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ভারত বায়োটেকের 'কোভ্যাক্সিন' নিয়ে একের পর এক ঘটে চলা ঘটনায় বিতর্ক অব্যাহত রাজ্য-রাজনীতিতে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ভোপালে বছর ৪৫-এর এক স্বেচ্ছাসেবক মারা যাওয়ার পর থেকেই আইসিএমআর-ভারত বায়োটেকের দিকে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ট্রায়ালের অস্বচ্ছতা নিয়েও তোলপাড় শুরু হয়েছে নানামহলে। বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবক ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ট্রায়ালের সময়ে নাকি তাঁদের কোভিড ভ্যাকসিনের সম্পর্কে কোনোরকম তথ্যই জানানো হয়নি। এসবের মাঝে ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে কোভ্যাক্সিন বিতর্কের পারদ আর একটু চড়ল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

ট্রায়াল শেষের আগে কোভ্যাক্সিন ব্যবহার উচিত নয়
কোভ্যাক্সিন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিএস সিং দেও সাবধানবাণী শুনিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-এর তরফে কোভ্যাক্সিনকে জরুরি ভিত্তিতে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এমনকী এই প্রতিষেধক যে এখনও ট্রায়ালের আওতায়, তাও ফের মনে করিয়ে দিয়েছেন সিং। তাই স্বচ্ছন্দে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দিতে তিনি এখনও 'আত্মবিশ্বাসী' নন বলেও জানিয়েছেন।

প্রশ্ন উঠছে আইসিএমআরের দিকেও
আইসিএমআর ও এনআইভি-র সহযোগিতায় 'কোভ্যাক্সিন' তৈরির লক্ষ্যে এগিয়েছিল ভারত বায়োটেক। গত জুলাইয়ে ডিসিজিআই ভারত বায়োটেককে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরুর ছাড়পত্র দেয় বলে জানা যায়। এখনও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের সম্পূর্ণ তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। ফলে এত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন প্রয়োগ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এমতবাস্থায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে কোভ্যাক্সিন প্রয়োগের প্রশ্নে সাফ না করে দেন সিং। তাঁর মতে, ট্রায়াল শেষের আগে ভ্যাকসিন প্রয়োগ নৈব নৈব চ।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার পাল্লা ভারী হচ্ছে ক্রমশ
ভারত বায়োটেকের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম/দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফল খতিয়ে দেখার পর ডিসিজিআই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের অনুমোদন দেয়। এরপরই নাকি দেশের ২৫টি কেন্দ্রে প্রায় ২৬,০০০ স্বেচ্ছাসেবকের উপর ট্রায়াল শুরু করে সংস্থা। যদিও সূত্রের খবর, ভারত বায়োটেকের এহেন তর্জার মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার 'কোভিশিল্ড'-এর প্রয়োগের দিকেই আরও বেশি করে ঝুঁকতে পারে কেন্দ্র, এমনটাই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

সরকারি স্তরেও বাড়ছে জটিলতা
ছত্তিশগড়ে এখনই 'কোভ্যাক্সিন' প্রয়োগের প্রশ্নে না করলেও সূত্রের খবর, রাজ্যের ২৮টি জেলায় টিকাকরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে ভূপেশ বাঘেলের সরকার। ভ্যাকসিন সরবরাহের লক্ষ্যে যে জোরকদমে এগোচ্ছে রাজ্য, তা স্পষ্ট ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কথাতেই। তাঁদের মতে, টিকাকরণ কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৫৩ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীকে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ছত্তিশগড় স্বাস্থ্যবিভাগ।












Click it and Unblock the Notifications