১ হাজারের ভাতা ঘোষণার পরেই ঘাসফুল শিবিরে যোগ শতাধিক পুরোহিতের, বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা
আগামী বছরেই বিধানসভা ভোট বাংলায়। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল-বিজেপি সহ প্রায় প্রতিটা রাজনৈতিক দলই। এদিকে ভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর পুরোহিত ভাতা ঘোষণার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন তরজা।

তৃণমূলে যোগ বর্ধমানের পুরোহিতদের
মমতার ঘোষণা অনুযায়ী পুজোর মাস অর্থাত্ অক্টোবর থেকেই শুরু হয়ে যাবে এই ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া। প্রাথমিক ভাবে প্রতিমাসে ১ হাজারের এই আর্থিক সুবিধা পাবেন ৮ হাজার পুরোহিত। এদিকে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বেশ কিছু বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে রাজ্য-রাজনীতিতে। সূত্রের খবর, মমতার এই মাসিক সাম্মানিক প্রদানের ঘোষণার পরে রবিবার পূর্ব বর্ধমানের একটা বড় সংখ্যক পুরোহিতের দল তৃণমূলে যোগ দিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

সংখ্যাগুরু তোষণের অভিযোগ বামেদের
এদিকে পুরোহিত ভাতার ঘোষণার পরেই মমতার বিরুদ্ধে সংখ্যাগুরু তোষণের অভিযোগে সরব হয়েছে বামেরা। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্যে হিন্দুদের মন জিততেই বিজেপির পথে হেঁটে এবার সংখ্যাগুরু তোষণ শুরু করেছেন মমতা। এই জন্য ঢাল করা হচ্ছে পুরোহিত ভাতার মতো প্রকল্পকে। অন্যদিকে রবিবার পূর্ব বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির সহ বর্ধমানের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত মন্দিরের কমপক্ষে ৬৮ জন পুরোহিত টিএমসিপি-তে যোগদান করলেন বলে জানা যাচ্ছে।

মমতাকে আক্রমণে বিজেপি
এদিকে মমতার পুরোহিত ভাতে নিয়ে গত কয়েকদিনে একাধিকবার সুর চড়াতে দেখা গেছে বিজেপিকেও। এই প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য যুবমোর্চার সভাপতি দেবজিৎ সরকার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, " ইমাম ভাতা-পুরোহিত ভাতা দিয়ে মমতা ব্যানার্জী মুসলিমদের কাছে অতি মুসলিম ও হিন্দুদের কাছে অতি হিন্দু সাজতে চাইছেন।"

মমতাকে সাধুবাদ রাজ্যের পুরোহিতদের বড় অংশের
এদিকে মমতার এই ঘোষণায় স্বভাবতই খুশি রাজ্যের পুরোহিত মহলের একটা বড় অংশই। তাদেরও সাফ কথা, ‘এর আগে কোনও রাজনৈতিক দলই আমাদের দুঃখ, দুর্দশার কথা শুনে সরাসরি আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি।" এদিকে মুসলিম সমাজের মন জিততে এর আগে রাজ্য সরকার ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের মাসিক ভাতা চালু করেছিল ওয়াকফ বোর্ডের মাধ্যমে।

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা কেন? উঠছে প্রশ্ন
বর্তমানে সুশীল সমাজের অনেকেই এই ক্ষেত্রে সংবিধানের অবতারণা করছেন। তাদের সাফ যুক্তি সংবিধান অনুযায়ীই তো ধর্ম নাগরিকের ব্যক্তি পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। সকল ধর্মের প্রতিই সমান আচারণ রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু সেখানে ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কোনও সরকার ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও নাগরিককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা কেন করবে? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।












Click it and Unblock the Notifications