গুজরাতে জমিয়ে নাটক, কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর

গত দু'দিন ধরে গুজরাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ রাজ্যে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে বলে নরেন্দ্র মোদী যে দাবি করেন, তা অসাড় বলে বণর্না করেছেন তিনি। শুক্রবার সকালে আমেদাবাদে একটি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, গুজরাতে ছিঁটেফোঁটা উন্নয়নও হয়নি। গোটাটা বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর প্রচার। কৃষিতে উৎপাদন কমে গিয়েছে। ঋণের ভারে কৃষকরা জর্জরিত। সেই সব নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর ভাবনা নেই। তিনি মুকেশ আম্বানির মতো শিল্পপতিদের স্বার্থ দেখতেই ব্যস্ত। এমনকী, এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও খারাপ। এর পরই তিনি ঘোষণা করেন, "আমি জবাব চাইতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। গান্ধীনগরে সচিবালয়ে গিয়ে সোজাসুজি কথা বলব।"
তার পর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাতানুকূল টয়োটা ইনোভায় চেপে নরেন্দ্র মোদীর কাছে 'জবাব' চাইতে যান 'আম আদমি' অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সঙ্গে ছিলেন মণীশ শিশোদিয়াও। কিন্তু গান্ধীনগরে ঢোকার মুখে তাঁকে আটকে দেয় পুলিশ। বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হলে আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে। নইলে যেতে দেওয়া হবে না। কিছুক্ষণ বাদানুবাদের পর মণীশ শিশোদিয়াকে তিনি পাঠান নরেন্দ্র মোদীর অফিসে। কিন্তু সময় দেননি মুখ্যমন্ত্রী। বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হয় মণীশ শিশোদিয়াকে।
সাক্ষাৎ হল না নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে তোপ দেগেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকলে সাক্ষাৎ করা যায় না। তা ছাড়া, উনি গুজরাত মডেলের উন্নয়নকে মানতে চাইছেন না। তা হলে দিল্লিতে ক্ষমতায় থেকে বিকল্প মডেল খাড়া করতে পারতেন। সেটা না করে কুর্সি ছেড়ে পালিয়ে গেলেন কেন? আসলে গোলমাল পাকানো ছাড়া আর কিছু করতে পারে না আম আদমি পার্টি। গুজরাত, দিল্লিতে দু'দিন আগেই আম আদমি পার্টির নেতারা ভাঙচুর, মারামারি করেছেন। পুলিশকে ইট মেরে জখম করেছেন। তার বিরুদ্ধে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এখনও কিছু বলছেন না কেন? বিজেপি-র অভিযোগ, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ভণ্ডামি করছেন। কারণ উনি নিজের দলের কলঙ্কিক বিধায়ক, নেতাদের হয়ে সাফাই দেন নানাভাবে। যেমন, সোমনাথ ভারতীর বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেননি। অথচ অন্যদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন। সারা দেশে ঘুরে তাঁর ঘুরে বেড়ানোর খরচ কে দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলে বিজেপি।
এদিকে, আদর্শ নির্বাচনী বিধি ভাঙার অভিযোগে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করল গুজরাত পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী, ভোট ঘোষণার পর লাউড স্পিকার ব্যবহার করে রাজনীতিক সভা করতে গেলে প্রশাসনের অনুমতি লাগে। কিন্তু অরবিন্দ কেজরিওয়াল কোনও অনুমতি না নিয়েই আমেদাবাদে দলের সভা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications