অবশেষে কি পতন হল রক্তচক্ষু হিদমার? পূর্ব গোদাবরীতে ধুলোয় মিশল নকশালদের শীর্ষ কমান্ডার

অন্ধ্রপ্রদেশের জঙ্গলে ভোরের আলো ফুটতেই যেন শেষ হল তিন দশকের দাপট। ২৬টি বড় হামলার নেপথ্যের কারিগর, কুখ্যাত নকশাল নেতা মাদাভি হিদমা খতম হলেন গ্রেহাউন্ড বাহিনীর গুলিতে। তাঁর সঙ্গে মৃত্যু হল দ্বিতীয় স্ত্রী রাজে ও আরও চার শীর্ষ গেরিলার।

ইন্টেলিজেন্সে আগেই মিলেছিল খবর, অন্ধ্র তেলেঙ্গানা সীমান্তের ঘন জঙ্গলে নড়াচড়া বাড়িয়েছে PLGAর ব্যাটালিয়ন ১। ভোর ছয়টা থেকে সাতটার মাঝামাঝি জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুরু হয় ঝটিকা অভিযান। নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে মোকাবিলায় নামতেই চলে তুমুল গুলির লড়াই।

যুদ্ধ শেষ হতেই মেলে ছয়টি দেহ। তার মধ্যেই পড়ে ছিল বছর কয়েক ধরে ভারতের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন নকশাল কমান্ডার নাম যার পাশে ছিল ১ কোটি টাকার পুরস্কার। সঙ্গে নিহত হয় স্ত্রী রাজে ও SZCM নেতা সুরেশ ও টেক শঙ্কর।

হিদমার শেষ ঠিকানা পূর্ব গোদাবরীর ঘন ছায়াজঙ্গল। অন্ধ্র পুলিশের ডিজিপি হরিশ কুমার গুপ্তা নিশ্চিত করেছেন, বিশাল এলাকায় এখন চলছে সার্চ অ্যান্ড ক্লিয়ারেন্স অভিযান। বস্তার রেঞ্জ আইজি পি. সুন্দররাজও জানান ১৮ নভেম্বরের এই এনকাউন্টার নকশাল নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা। উদ্ধার হয়েছে একাধিক একে ৪৭ রাইফেল, বিপুল গোলাবারুদ।

অন্ধ্রপ্রদেশ গোয়েন্দা শাখার এডিজি মহেশ চন্দ্র লাড্ডা বলেছেন দেড় মাস ধরে ছত্তীসगढ़ থেকে আন্দ্রার দিকে নকশালদের যাতায়াত নজরে রেখেছিল বাহিনী। জঙ্গলে মুখোমুখি সংঘর্ষের পাশাপাশি কাকিনাড়া ও কৃষ্ণা জেলায় ধরপাকড় চলায় ধরা পড়ে মোট ৩১ জন মাওয়াদী।

১৯৮১ সালে ছত্তীসগড়ের দক্ষিণ সুকমার পুভারতি গ্রামে জন্ম। মুরিয়া জনজাতির ছেলে হিদমা মাত্র ১৭ বছর বয়সে মাওবাদী দলে নাম লেখান। সংগঠনে তিনি দ্রুত উঠে আসেন কেন্দ্রীয় কমিটির কনিষ্ঠতম আদিবাসী সদস্য হিসেবে।

ছোটবেলায় গেরিলা স্কুলে পড়েছিলেন, বড় হয়ে গড়ে তুলেছিলেন একই ধরনের 'বিপ্লবী পাঠশালা', যার উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র পথে আদর্শ ছড়ানো। তার নেতৃত্বে PLGA ব্যাটালিয়ন১ পরিণত হয়েছিল সবচেয়ে মারাত্মক গেরিলা ইউনিটে।

হিদমার প্ল্যানিংয়ে ঘটেছে দেশের ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম মাওবাদী হামলাগুলি। রক্তাক্ত ইতিহাসে তিন দশকে ১৫০ র বেশি মৃত্যু হয়েছে।

২০১০ সালে দান্তেওয়াড়া হামলায় নিহত হন ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান।
২০১৩ সালে ঝিরম উপত্যকায় গণহত্যাতে মৃত্যু হয় ২৭ জন, এমনকি বহু কংগ্রেস নেতা নিহত হন।

২০২১ সালে সুকমা বিজাপুর হামলাতে শহিদ হন ২২ জন নিরাপত্তাকর্মী।

এগুলোর সবকটিরই নেতৃত্বে ছিলেন হিদমা। তাঁর গতিবিধি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ছিল সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।

নকশাল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। হিদমার মৃত্যু শুধু এক কমান্ডারের মৃত্যু নয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বস্তার ও আশপাশের এলাকায় মাওবাদী কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ভেঙে পড়ল এই এনকাউন্টারের ফলে। PLGA ব্যাটালিয়ন ১ এর দিকভ্রান্ত অবস্থা আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে ধারণা।

অভিযান সফল হওয়ায় গ্রেহাউন্ড ও অন্ধ্র পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলির সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রক্তপাতের ইতিহাস লিখে যাওয়া সেই ভয়ঙ্কর কমান্ডারের পথচলা শেষ, তবে নকশাল নেটওয়ার্ক ভাঙার যুদ্ধ এখনও বাকি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+