কৃষকদের দিল্লি চলো রুখতে কঠোর পদক্ষেপ, ইন্টারনেট-সহ একাধিক পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা হরিয়ানা সরকারের
Farmers' Protest: লোকসভা ভোটের আগে কি কৃষক আন্দোলনের ঢেউ অস্বস্তি বাড়াবে মোদী সরকারের? রাজনৈতিক মহলে এটাই এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠন দিল্লি চলোর ডাক দিয়েছে। আর তা মোকাবিলা করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ করল হরিয়ানা সরকার।

ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিতকরণ-সহ একাধিক দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াতে চাইছে কিষাণ সংগঠনগুলি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চরণ সিং ও কৃষিবিজ্ঞানী স্বামীনাথনকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। কিন্তু তা যে কৃষকদের মন জয় করতে পারেনি, তা স্পষ্ট হচ্ছে।
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা, কিষাণ মজদুর মোর্চা-সহ কৃষকদের ২০০টির বেশি সংগঠন এই দিল্লি চলো কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। বেছে নেওয়া হয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারিকে। হরিয়ানায় রয়েছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। হরিয়ানা সরকার ঘোষণা করেছে, বিভিন্ন জেলায় ১৩ ফেব্রুয়ারি অবধি বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা লাগু থাকবে।
মোবাইল ইন্টারনেট, একসঙ্গে অনেক মেসেজ পাঠানো বা বাল্ক এসএমএস, সমস্ত ডঙ্গল সার্ভিস বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আম্বালা, কুরুক্ষেত্র, কৈথাল, জিন্দ, হিসর, ফতেহাবাদ, সিরসা-সহ বেশ কিছু জেলায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। ভয়েস কলের ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি সরকারি নির্দেশিকায়।
১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট অবধি এই পরিষেবাগুলি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বর্ডারে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখা হচ্ছে। হরিয়ানা পুলিশ ও আম্বালা প্রশাসন ব্যারিকেডের বন্দোবস্ত করছে। কৃষকরা যাতে বেশিদূর এগোতে না পারেন সে কারণে ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড রাখা হয়েছে।
আম্বালার কাছে শম্ভু বর্ডারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশের ডিজিপি-সহ উচ্চ পদাধিকারীরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন। চণ্ডীগড় থেকে যাঁরা দিল্লি যাবেন তাঁদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেরাবাস্সি, বারওয়ালা বা রামগড়, সাহা, শাহবাদ, কুরুক্ষেত্র হয়ে কিংবা পাঁচকুলা, ৩৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক যমুনানগর ইন্দ্রি বা পিপলি, কারনাল হয়ে যেতে বলা হয়েছে।
হরিয়ানা পুলিশের কর্মীদের সঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০ কোম্পানি আধা সেনা। অনুমতিহীন যে কোনও পদক্ষেপকে আটকানো হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রতিবাদী কৃষকদের। কোনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া পাঞ্জাবে না যেতে জনসাধারণকে আর্জি জানানো হয়েছে।
জিন্দ ও ফতেহাবাদ জেলাতেও নিরাপত্তার কড়া বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। আম্বালা-শম্ভু বর্ডার, খানাউরি-জিন্দ ও ডাবওয়ালি বর্ডার দিয়েই দিল্লি অভিযানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষক সংগঠনগুলির।












Click it and Unblock the Notifications