রাস্তাতেও নিরাপদ নয় পরিযায়ী শ্রমিকরা! হেঁটে বাড়ি ফেরাই কাল হল মা-মেয়ে সমেত ৪ জনের
কয়েকদিন আগেই মহারাষ্ট্রের বিভীষিকাময় সেই ঘটনার কথা সবার মনে গঁথে রয়েছে এখনও। এরই মধ্যে নতুন দুটি হাড় হিম করা ঘটনার কথা সামনে এল এদিন। ট্রেনে জায়গা না পেয়ে অনেক শ্রমিকই হেঁটেই কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। রেললাইন ধরে, রাস্তা ধরে, যে যেভাবে পারছে। তবে রেল লাইন ধরে হাঁটা আর নিরাপদ নয়, তাই রাস্তা। তবে সেখানেও নেই নিস্তার।

কয়েকশো কিলোমিটার পথ হেঁটেও বাড়ি ফেরা হল না
সোমবার গভীর রাতে দুটি পৃথক ঘটনায় হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে গাড়ির ধাক্কা খেয়ে প্রাণ হারান দুই পরিযায়ী শ্রমিক। জানা গিয়েছে কয়েকশো কিলোমিটার পথ হেঁটে তাঁরা বাড়ি ফিরতে উদ্যত হয়েছিলেন। আর বাড়ি ফিরে আসার সেই অদম্য ইচ্ছাই তাঁদের কাল হয়ে দাঁড়াল।

হরিয়ানায় মৃত্যু এক বিহারের বাসিন্দার
হরিয়ানায় এক দ্রুত বেগে চলা গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান বিহারের এক বাসিন্দা। সেই একই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও একজন গুরুতর ভাবে আহত হন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি হরিয়ানার আম্বালাতে ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দ্রুত বেগে চলা একটি এসইউভি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই শ্রমিকদের ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। অপরজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁরা বিহারে ফিরছিলেন।

উত্তরপ্রদেশেও পথদুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিক
অপর এক ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বারেলিতে এই সাইকেল আরোহী পরিযায়ী শ্রমিক প্রাণ হারান এক গাড়ির ধাক্কায়। শিব কুমার দাস নামক ২৫ বছরের সেই শ্রমিক উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে সাইকেলে করে বিহারে নিজের গ্রামে ফিরছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি ব্রেক ফেল করে সেই শ্রমিককে ধাক্কা মারলে এই বিপত্তি ঘটে। আরও একটি ঘটনায় একই ভাবে প্রাণ হারান এক মহিলা ও তাঁর মেয়ে।

লকডাউনে নাজেহাল অবস্থা পরিযায়ী শ্রমিকদের
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে সেই ২৫ মার্চ থেকে চলছে লকডাউন। এর জেরে কাজ হারিয়েছেন কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। এই অবস্থায় ভিনরাজ্যে তাঁরা থাকতে চাইছেন না। বাড়ির টানে ফিরতে কয়েক হাজার কিলোমিটার হেঁটেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই বাড়ি ফেরার আগেই মারা যাচ্ছেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে রেলে যাত্রার টাকা নেই
ট্রেন পরিষেবা চালু হলেও সর্বস্ব হারানো পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে রেলে যাত্রা করার টাকা নেই। অনলাইনে টিকিট বুক করার উপায়ও নেই তাঁদের কাছে। প্রয়োজনী কাগজ পত্রও নেই অনেকের কাছেই। শ্রমিক স্পেশালে তাই স্থান মেলেনি অধিকাংশেরই। এই অবস্থায় এই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?












Click it and Unblock the Notifications