‘এই অপমান ভোলার নয়, সংগ্রাম চলবেই!’ মুক্তির পরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের খড়গহস্ত মেহবুবা
১৪ মাসের বন্দিদশা কাটিয়ে মুক্তি মেলার পরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণে মেহবুবা মুফতি
বন্দি দশার ১৪ মাস কাটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। মঙ্গলবার রাতেই তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখপাত্র রোহিত কানসাল। এদিকে মুক্তির পরেই ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল উপত্যকার এই জননেত্রীকে। এমনকী গত বছরের কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে ৩৭০ ধারা বিলোপ ও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার খর্ব প্রসঙ্গেও বিজেপির বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হন মেহবুবা।

মুক্তি পেয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত মেহবুবা
বন্দি দশা থেকেই ছাড়া পেয়েই কাশ্মীরবাসীর কাছে মেহবুবার আর্জি, " অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দিল্লি আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছে( পড়ুন ৩৭০ ধারা বাতিল) তা ফিরিয়ে আনতেই হবে। এই অপমান ভোলার নয়। শুধু এই ইস্যু নয় সমগ্র কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য এতদিন প্রচুর মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, সেটারও দ্রুত সমাধান করতে হবে। আমি জানি এই কাজ খুব একটা সহজ হবে না, তাই আমাদের এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। আজ আমাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, আমি দাবি করছি যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হোক।"

৩৭০ ধারা বিলোপের পর ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ভূস্বর্গ
এদিকে ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয় জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা। গোটা উপত্যকাই পরিণত হয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এমনকী পরিবর্তিত হয়ে যায় বিধানসভার অবকাঠামোও। এদিকে কেন্দ্রের এই ক্ষমাতার আস্ফালনকে কখনওই সঠিক ভাবে নেয়নি কাশ্মীরবাসীরা। ফের আগুন জ্বলে ভূস্বর্গে।

গত জুলাইয়ে ফের বাড়ে বন্দি দশার মেয়াদ
এদিকে উত্তেজনা প্রশমিত করার দোহাই দিয়ে ৫ অগাস্টের পরই আটক করা হয় জম্মু-কাশ্মীরের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি-সহ কাশ্মীরের বহু রাজনীতিককে। পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট বা পিএসএ-র অধীনেই মূলত তাদের গৃহবন্দি করে কেন্দ্র সরকার। এদিকে গত মার্চে ফারুক এবং ওমর আবদুল্লাহকে মুক্তি দেওয়া হলে বন্দিই ছিলেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা। এদিকে বার বার নানা অছিলায় মেহবুবার গৃহবন্দির মেয়াদ বাড়ানো হয় বলেও অভিযোগ। গত জুলাইয়েও তিন মাসের জন্য বাড়ে তাঁর গৃহবন্দির মেয়াদ।

সুপ্রিম তোপের পর বেকায়দায় কেন্দ্র
যদিও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হতে দেখা যায় বাম-কংগ্রেস সহ দেশের প্রথমসারির একাধিক রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে মায়ের মুক্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হতে দেখা যায় মেয়ে ইলতিজা। সেখানেও মুখ পোড়ে কেন্দ্রের। ‘আর কতদিন জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আটকে রাখা হবে মেহবুবাকে ?', প্রশ্ন করে সুপ্রিম কোর্ট। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা তারপরেই বেকায়দায় পড়ে পিডিপি নেত্রীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। এদিকে ছাড়া পাওয়ার পরেই ২০১৯-এর ৫ অগাস্টকে 'কালা দিন' হিসেবে উল্লেখ করেন মেহবুবা।












Click it and Unblock the Notifications