গুজরাতে বিজেপির মোকাবিলায় অমিত শাহ-র এই লাইনেই চলছেন রাহুল
গুজরাতে বিজেপির মোকাবিলায় বিজেপির নীতিতেই চলতে চাইছেন কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। যে আসনে যে প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা বেশি তাঁকেই নির্বাচনের টিকিট দিতে চাইছে কংগ্রেস।
গুজরাতে বিজেপির মোকাবিলায় বিজেপির নীতিতেই চলতে চাইছেন কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। যে আসনে যে প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা বেশি তাঁকেই নির্বাচনের টিকিট দিতে চাইছে কংগ্রেস।

গুজরাতের বরোদার এমএস বিশ্ববিদ্যালয়। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছাত্ররা প্রচারের তোড়জোড় করছেন। বেশিরভাগই স্থানীয়। তবে সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, রাজস্থান এবং উত্তরাখণ্ড থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা। যেরকমটা অন্য নির্বাচনেও হয়ে থাকে। দল তাঁদের দরজায়-দরজায় প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে পরের মাসের নির্বাচনের জন্য। এটাই একটা বড় পরিবর্তন। বলছেন প্রচারে বের হওয়া ছাত্রছাত্রীরা। যাঁদের গড় বয়স ২৪ আশপাশে।
কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের দাবি, স্থানীয় মানুষ বলছেন, কংগ্রেসকে আমরা গত ২০ বছরে এই প্রথমবার দেখছি। এবারের লড়াই জোরদার বলছেন ছাত্রছাত্রীরা।
শুধুমাত্র কংগ্রেস সহ সভাপতি সারা রাজ্যে আক্রমণাত্মক প্রচার করছেন না, তিনি তৃণমূল স্তরের স্ট্র্যাটেজি কী হবে তার মধ্যেই যুক্ত রয়েছেন। এইভাবেই রাজ্যে ২২ বছর ক্ষমতায় থাকা বিজেপিকে সরানো যাবে বলে মনে করছেন রাহুল গান্ধী।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তিন দফার ওপিনিয়ন পোল করিয়েছে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পর রাজ্য দখলে ঠিক যে নীতি প্রয়োগ করেছেন এবার সেই নীতিতেই চলতে চাইছেন রাহুল। যে আসনে যে দলীয় প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা বেশি, তার ওপরই আস্থা রাখা হচ্ছে। তবে রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা এবিষয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ কিছু বলতে চাইছেন না।
প্রার্থী নির্বাচনের জন্য করা হয়েছে স্ক্রিনিং কমিটি। তাতে রয়েছেন মীনাক্ষী নটরাজন। কোর টিমে রাখা হয়েছে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেও। যাঁদের মধ্যে একজন পঞ্জাবের নির্বাচনে রাহুল গান্ধীকে সাহায্য করেছিলেন। অপর জন বছরের পর বছর ধরে রাহুলকে সাহায্য করেন। তাঁরাই এবার, বলা যেতে পারে প্রথমবারের জন্য কোনও রাজ্যের নির্বাচন সমালাবেন। এঁরা দুজনেই রাহুলের খুব বিশ্বস্ত এবং রাজ্যটাকে খুব ভাল করে চেনেন, এমনটাই সূত্রের খবর।
কোনও নির্বাচনের আগে স্থানীয় কোনও নেতা টিকিট দাবি করেন, কিংবা নিজের সুবিধার জন্য় অপর কাউকে টিকিটের জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু এঁদের কেউই জেতার মতো জায়গায় থাকেন না। কিন্তু এই বছরে সেই নীতিতে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সার্ভে ছাড়াও, দল এবং প্রত্যেকটি স্তর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্য দেওয়া হয়েছে রাহুল গান্ধীর তৈরি করা কোর টিমকে। একইসঙ্গে চেষ্টা করা হচ্ছে যতটা সম্ভব ডামি প্রার্থী কম দেওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুজরাতের এক কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, গুজরাতে এবারের কংগ্রেসের একটা বড় পরিবর্তন হল, রাজ্যের মুসলিম ভোটারদের ওপর জোর না দেওয়া। তবে গুজরাতে প্রচারে গিয়ে মন্দিরে মন্দিরে রাহুলের যাওয়া নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের খোঁজখবর করতে বলা হয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে, সম্প্রদায়ের কাছে বলতে, তাঁরা(কংগ্রেস) সঙ্গে আছেন। গুজরাতের 'নরম হিন্দুত্বের প্রচার'-এর অঙ্গ হিসেবেই হিন্দু ভোটারদের জন্যই রাহুল মন্দিরে যাচ্ছেন।
বরোদার এক দলীয় নেতা জানাচ্ছেন, আগে দেখা গিয়েছে, বিরোধীদলের দাঁড় করানো নির্দল মুসলিম প্রার্থীর কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ছেন কংগ্রেসের মুসলিম প্রার্থী। এতে ভোট ভাগ হয়ে সুবিধা হচ্ছিল তাদের বিরোধীদলের। কিন্তু এবার তা হবে না বলেই দাবি করেছেন তিনি। যদিও অপর এক নেতার মতে এবারও নির্দল প্রার্থী দাঁড় করাবে তাদের বিরোধীদল।












Click it and Unblock the Notifications