লকডাউনের আর্থিক মন্দার মাঝেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অটোমোবাইল শিল্প, নেপথ্যে কি কারণ জেনে নিন
লকডাউনের আর্থিক মন্দার মাঝেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অটোমোবাইল শিল্প, নেপথ্যে কি কারণ জেনে নিন
করোনার জেরে দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে সমূহ বিপদে পড়েছিল দেশের অটোমোবাইল শিল্প। এপ্রিল ও মে জুড়ে দেশব্যাপী গাড়ি বিক্রির সংখ্যা কার্যত ৮০-৯০% কমে যাওয়ায় নিদারুণ অর্থনৈতিক দুর্বিপাকে পড়ে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। যদিও জুন মাসে খানিক হলেও ঘরে লক্ষ্মী ফিরেছে গাড়ি সংস্থাগুলির। মারুতি সুজুকি ও হুন্ডাই জানিয়েছে, মে মাস থেকে জুনে তাদের বিক্রি গাড়ি বিক্রির পরিমাণ যথাক্রমে ৩.৮ গুণ ও ৩ গুণ বেড়েছে।

ভারতে অটোমোবাইল শিল্প পুনরুদ্ধারের পিছনে কোন কোন বিষয়?
এপ্রিল ও মে মাসে কড়াভাবে লকডাউন পালনের ফলে কার্যত গাড়ির চাহিদা কর্পূরের মত উবে গিয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের বিধি লঘু হওয়ার পরেই সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গাড়ি কেনার প্রয়োজন পড়ছে। এক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্মী জানিয়েছেন, "শহরাঞ্চল প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মফস্বল এলাকা গুলি তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হচ্ছে। তাছাড়া গাড়ির সম্বন্ধে কৌতূহল ও বুকিং বেড়ে যাওয়ায় আমরা ক্ষতি সামলানোর দিকে আশাবাদী।" এমএসআইএলের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান শশাঙ্ক শ্রীবাস্তবের মতে, "করোনা থেকে গা বাঁচানোর লক্ষ্যেই গাড়ি কেনার ঝোঁক বাড়ছে। করোনা ছড়ানোর আগে যে পরিমাণ বুকিং হত, জুলাইয়ে তার প্রায় ৮০-৮৫% এখন ফিরে এসেছে।"

চিনে অটোমোবাইল শিল্পের হালহকিকত কিরকম?
আন্তর্জাতিক খবর অনুযায়ী, চিনে কোভিডের আক্রমণ জোরদার হয় ২০২০-এর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি জুড়ে। ফলত গত বছরের নিরিখে চিনে ফেব্রুয়ারিতে গাড়ি বিক্রি ৭৯% কমলেও মার্চে কমার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০%-এ। গত বছরের তুলনায় এপ্রিলে ৫.৫% ও মে মাসে ১.৯% হারে বাড়ে গাড়ি বিক্রি। এর ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকে চিন শক্তিশালী হওয়ার দিকে আরও খানিকটা পথ এগোয়। মূলত করোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রথমবারের জন্য যারা গাড়ি কিনছেন, তাদের জন্যই এই শ্রীবৃদ্ধি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্রমেই বাড়ছে ছোট গাড়ির চাহিদা
এমএসআইএলের তথ্যানুযায়ী, অল্টো ও এস-প্রেসোর মতো ছোট গাড়ির বিক্রির পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২০১৯-র জুনে এই ধরণের গাড়ি বিক্রির প্রায় ৫৬ শতাংশই ২০২০-এর জুনে ফিরেছে বলে মত অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের। ওয়াগনার, সুইফট, সেলেরিওর মত ছোট ও কম্প্যাক্ট গাড়ি বিক্রি হয়েছে মোট ৩৭,১৫৪ টি যা জুন মাসে মোট গাড়ি বিক্রির প্রায় ৭২%। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একদিকে যেমন হুন্ডাই জানিয়েছে যে তাদের ছোট গাড়ি ও এসইউভির বিক্রি বেড়েছে, তেমনই যেসকল সংস্থার ছোট গাড়ি নেই, তাদের লোকসান ক্রমশ বেড়েছে। টয়োটা ও হণ্ডা মোটরসও ২০১৯-এর জুন মাসের যথাক্রমে ৩৭% ও ১৪% বিক্রি ফিরে পেয়েছে। করোনার ছোঁয়াচ এড়িয়ে অফিস থেকে পারিবারিক প্রয়োজনেই ছোট গাড়ির চাহিদা ক্রমেই উর্ধ্বমুখী বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।

এরকমভাবে বিক্রিবাটা চলবে কি?
মারুতি সুজুকি ও হুন্ডাইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, বুকিং ও গাড়ি সম্বন্ধে কৌতূহল বেড়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে তিন শিফটে গাড়ি প্ৰস্তুত চালু হয়েছে। শশাঙ্ক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ক্ষেত্রে আগের থেকে কিছুটা হলেও রকমফের দেখা যাচ্ছে। তার কারণ অবশ্যই করোনার কারণে আরোপিত সামাজিক বিধিনিষেধ। যদিও এমএসআইএলের মানেসর প্ল্যান্টের ছবি অন্য কথাই বলছে। হরিয়ানা সহ আশপাশের রাজ্যের কর্মীরা একত্র হওয়ায় প্রতিদিন ২,০০০-৪,৫০০ ট্রাক ভর্তি গাড়ি এই প্ল্যান্ট থেকে দেশের ভিন্ন জায়গায় পাঠান হচ্ছে।

অটোমোবাইল শিল্পের উপর কতটা নির্ভরশীল আমাদের দেশীয় অর্থনীতি ?
দেশের জিডিপির প্রায় ৭% নির্ভরশীল অটোমোবাইল শিল্পের উপর। ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স-এর তরফে জানানো হয়েছে, দেশের প্রায় ৩.৭ কোটির কর্মসংস্থান জড়িত এই অটোমোবাইল শিল্পের সাথে। সূত্রের খবর, এই খাতে এখন থেকে সরকারের বার্ষিক জিএসটি আয় হতে পারে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা। ফলত এটা অন্তত স্পষ্ট যে দেশের অর্থনীতি প্রবলভাবে নির্ভরশীল এই ক্ষেত্রের উপর।












Click it and Unblock the Notifications