কৃষক আন্দোলনের প্রভাব পড়লো দিল্লিতে, কৃষকদের রুখতে ভালোই বেগ পেল দিল্লি পুলিশ
কৃষকদের সংসদ অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। কার্যত রাজধানী দখলে গেল কৃষকদের। কৃষকদের বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হল দিল্লি পুলিশকে। সপ্তাহের প্রথম দিন স্তব্ধ হল দিল্লির রাজপথ।
এদিন উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা দিল্লির সংসদ কমপ্লেক্সে অভিযান শুরু করেন। কৃষকরা নতুন কৃষি আইনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ সহ তাদের পাঁচটি দাবি নিয়ে আজ এই অভিযান করেন। বর্তমানে শীতকালীন অধিবেশন চলছে সংসদের উভয় কক্ষেই। আর সেখানেই নতুন কৃষি আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ এবং সুবিধার জন্য তাদের পাঁচটি মূল দাবি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন কৃষকরা।

কৃষকরা পুরানো অধিগ্রহণ আইনের অধীনে ১০ শতাংশ প্লট এবং ৬৪.৭ শতাংশ বর্ধিত ক্ষতিপূরণের দাবি করছেন, যা বাজার হারের ক্ষতিপূরণের চারগুণ। এছাড়াও জানুয়ারী ১, ২০১৪ এর পরে অধিগ্রহণ করা জমির জন্য ২০ শতাংশ প্লট অধিগ্রহণ এবং ভূমিহীন কৃষকদের সন্তানদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। এই পাঁচ দফা দাবির জন্যেই তারা এদিনের এই কর্মসূচী গ্রহণ করেন।
সেই অনুযায়ী, এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ভারতীয় কিষান পরিষদ (বিকেপি), কিষাণ মজদুর মোর্চা (কেএমএম) এবং সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা (এসকেএম) সহ অন্যান্য সহযোগী গোষ্ঠীর প্রতিবাদী কৃষকরা 'সংসদ চলো' হুঙ্কার তুলে নয়ডার মহামায়া ফ্লাইওভারের কাছ থেকে অভিযান শুরু করেন। কিছুজন পায়ে হেঁটে তো কিছু জন ট্রাক্টরে করে দিল্লির দিকে যাত্রা শুরু করেন।
এদিকে আন্দোলনকারী কৃষকদের রুখতে সব দিক থেকে প্রস্তুত ছিল প্রশাসন। ব্যারিকেড বসিয়ে ছিল দিকে দিকে। অতিরিক্তভাবে, নয়ডাতেও পুলিশ রুট ঘুরিয়ে দিয়েছিল। দিল্লি-ইউপি চিল্লা সীমান্তে পুলিশ ও আরএএফ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনের তীব্রতা এতোটাই বৃদ্ধি পায় যে, কৃষকদের রুখতে কার্যত ব্যারিকেডও হার মানে।
নয়ডার দলিত প্রেরণা স্থলের কাছে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে কৃষকরা এগিয়ে যেতে উদগ্রীব হন সংসদ ভবনের দিকে। আর এখানেই কৃষকদের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। অবরুদ্ধ হয়ে যায় দিল্লির একাধিক রাস্তা।
তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কৃষকদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া শুনেছেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি গুলি নিয়ে বিশদে আলোচনা করার কথাও বলেছেন তারা। আপাতত, প্রশাসনের কথায় ভরসা রেখে আজকের সংসদ অভিযান স্থগিত করেছেন কৃষকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে নয়ডার দলিত প্রেরণা স্থল থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড। আপাতত, স্বাভাবিক হচ্ছে, দিল্লির যান চলাচল পরিস্থিতি।












Click it and Unblock the Notifications