বিজেপির সঙ্গে ৩০ বছরের গাঁটছড়া ভাঙল শিবসেনা

বিজেপির সঙ্গে ৩০ বছরের গাঁটছড়া ভাঙল শিবসেনা

১৯৮৯ সালে গড়া হয়েছিল জোটটি। সেই জোটের পাকাপাকি ভাবে ভাঙ্ার ঘোষণা করে দিলেন সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। এই বিষয়ে উদ্ধব বলেন, উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন শিবসেনা বিজেপির সঙ্গে থেকে ২৫ বছর নষ্ট করেছে। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি দুই দলকে একসঙ্গে এত বছর বেঁধে রাখলেও সেই বাধন ছিঁড়ে এবার বেরিয়ে গেল শিবসেনা। সূত্রের খবর, এনসিপির সমর্থনে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতে চলেছে শিবসেনা। তাদের বাইরে থেকে সমর্থন জানাবে কংগ্রেস।

সূচনা

সূচনা

১৯৮৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে প্রথমবার শিবসেনা ও বিজেপি নির্বাচনের আগে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। দুই গেরুয়া পন্থী দলের জোটের ভিত্তি ছিল একই। বিজেপির পক্ষে এই জোট গড়ার মূল ভূমিকায় ছিলেন প্রমোদ মহাজন। তাঁর সঙ্গে শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের সম্পর্ক ছিল বেশ ভালো। এর আগে ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ঝুলিতে আসে মাত্র ২টি আসন। মহারাষ্ট্রে বিজেপির সেই সময়কার সাংগঠনিক শক্তি রীতিমতো শূন্য। নির্বাচনে ভালো ফল করতে মহারাষ্ট্রে তারা তাকিয়ে ছিল ওই অঞ্চলের জোটসঙ্গীর উপরে।

জাতীয় দল হিসেবে লোকসভা (১৯৮৯) ভোটে বিজেপি বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তবে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে শিবসেনাকে বেশি আসন ছাড়ে তারা। ১৯৯০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে ১৮৩টি আসনে শিবসেনা লড়েছিল, তার মধ্যে তারা জিতেছিল ৫২টিতে, ১০৪টিতে লড়ে বিজেপি জিতেছিল ৪২টিতে।

জোটের প্রথম ক্ষমতার স্বাদ

জোটের প্রথম ক্ষমতার স্বাদ

১৯৯২ সালের বাবরি ধ্বংস এবং ১৯৯৩ সালের বম্বে বিস্ফোরণের পর গেরুয়া পালে লাগা হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৫ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রথমবার সরকার গঠন করে সেনা-বিজেপি জোট। সেই বার সেনা ৭৩টি এবং বিজেপি ৬৫টি আসনে জেতে। বাল ঠাকরের ফর্মুলা ছিল যারা বেশি আসন পাবে, মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাবে তারাই। সেই হিসেব মেনে সেনার মনোহর জোশী মুখ্যমন্ত্রী হন এবং বিজেপির গোপীনাথ মুণ্ডে হন উপমুখ্যমন্ত্রী।

জোটে চিড়

জোটে চিড়

১৯৯৯ সালের বিধানসভা ভোটে দুই দল ফের জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে লড়ে, কিন্তু এবার দুই দলই একে অপরের প্রার্থীকে হারানোর চেষ্টার অভিযোগ তোলে। মূল লক্ষ্য, যাতে নিজেরা বেশি আসন পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হতে পারে। সেবার শিবসেনা ৬৯টি এবং বিজেপি ৫৬টি আসন পায়। ২০১৯-এর মতো ১৯৯৯ সালেও মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে টানাপোড়েন দেখা যায় দুই দলের মধ্যে। ২৩ দিন ধরে আলোচনা করেও সুরাহা বের করতে ব্যর্থ হয় দুই গেরুয়া শিবির।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সদ্য কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া শরদ পাওয়ারের এনসিপি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে সরকার তৈরি করে। মুখ্যমন্ত্রী হন কংগ্রেসের বিলাসরাও দেশমুখ। সেই সময় জোটে থাকলেও টানাপোড়েন জারি থাকে দুই দলের। সেই সময় বালাসাহেব ঠাকরে বলেছিলেন, রাজ্যে পদ্ম ফুটছে শিবসেনার জোরে।

২০০৯ সালে প্রথমবার সেনাকে পিছনে ফেলে বিজেপি

২০০৯ সালে প্রথমবার সেনাকে পিছনে ফেলে বিজেপি

এসব সত্ত্বেও ২০০৪ সালে ফের একযোগে বিধানসভা ভোটে জোট করে সেনা-বিজেপি। শিবসেনা ৬২ আসনে জেতে, বিজেপি জেতে ৫৪ আসনে। সেবারও সরকার গড়তে ব্যর্থ হয় জোট। বিজেপি বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হয়।

২০০৯ সালে কংগ্রেস-এনসিপি ফের ক্ষমতায় আসে, গেরুয়া শিবিরের মহাপতন ঘটে। কিন্তু সেবারই প্রথম বিজেপি সেনার থেকে দুটি আসন বেশি পেয়ে বিরোধী দলনেতার পদ হাসিল করে।

মোদী ঝড়ের প্রভাব, প্রথমবার আলাদা ভাবে ভোটে লড়া

মোদী ঝড়ের প্রভাব, প্রথমবার আলাদা ভাবে ভোটে লড়া

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের মোদী ম্যানিয়েকে কাজে সাগিয়ে সে বছরের বিধানসভা ভোটে বিজেপি আসন সমঝোতা নিয়ে কড়া মনোভাব দেখায়। এর জেরে ২৫ বছর পর প্রথম বার দুই দল পৃথক ভাবে ভোটে লড়ে। এদিকে কংগ্রেস ও এনসিপি আলাদা হয়ে যাওয়ায় ভোট হয় বহুমুখী। সেনা ৬৩ আসন পায়, বিজেপি পায় ১২২ টি আসন। মুখ্যমন্ত্রী হন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। কিছুদিন বিরোধী আসনে বসার পর সেনা সরকারে যোগ দেয়, তাদের ১২টি মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে বিএমসি-র ভোটে আলাদা ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুই দল।

পাকাপাকি বিচ্ছেদ

পাকাপাকি বিচ্ছেদ

২০১৯ সালের লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসে, ততই দুদল একে অপরের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকে। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেধে লড়ে। দুই দল সম্মিলিত ভাবে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করলেও ফের দূরত্ব বাড়তে থাকে দুই দলের মধ্যে। সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি। আর সেই কুর্সি পেতে মরিয়া শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+