স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে ভারতের কোভিড–১৯ গণনায় মহিলাদের ‌‌সংখ্যা কমছে

অধিকাংশদেরই বিশ্বাস যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের থেকে মহিলারা অনেকটাই দূরে। পুরুষরা বেশি এই রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রমাণ বলছে অন্য কথা। ভারতের মহিলারা বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন যদিও সরকারি তথ্যে নেই তার হিসেব।

কোভিড–১৯ গণনায় মহিলাদের ‌‌সংখ্যা কমছে


দিল্লিতে দ্বিতীয়বার সার্স–কোভ–২ সেরো প্রকোপের সমীক্ষা গত সপ্তাহেই প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই সংক্রমণ পুরুষের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে উচ্চমাত্রায় দেখা দিয়েছে। এটাই প্রথম সেরো–সমীক্ষা নয়, যেখানে এই তথ্য উঠে এসেছে। মুম্বই ও আহমেদাবাদের সেরো–সমীক্ষাতেও একই ধরনের বিষয় দেখা দিয়েছে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, মুম্বইয়ে এই ব্যবধানের পরিমাণ আরও বেশি। পুনেতে আবার এ ধরনের ব্যবধান দেখা যায়নি। এই বিষয়টি অস্বাভাবিক হওয়ার পেছনে কারণগুলি হল সরকারীভাবে গণনা করা মামলার ক্ষেত্রে আরটি–পিসিআর বা অ্যান্টিজেন টেস্টের পর কোনও ব্যক্তির কোভিড পজিটিভ নিশ্চিত হচ্ছে এবং মহিলারা লক্ষণীয়ভাবে পুরুষদের অনুসরণ করছে।

মুম্বই সেরো সমীক্ষার নেতৃত্বকারী ও টাটা ইনস্টিটিউট ফর ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের দু’‌জন বিজ্ঞানীর মধ্যে এক উল্লাস কোলথুর সীতারাম বলেন, '‌আমার মনে হয়না আমরা এটা আশা করেছিলাম।’‌ তিনি আরও বলেন, '‌এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় লিঙ্গ পার্থক্যের কারণে হতে পারে, মহিলাদের পরিবারের প্রয়োজনের জন্য বাজার থেকে জিনিস কিনতে বেড়োতে হয় এবং অন্যদের সঙ্গে মিলিত হতে হয়।’‌ তিনি আরও জানিয়েছেন যে অন্য সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসাবে একটি অন্তর্নিহিত জৈবিক ব্যাখ্যা হতে পারে। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে কম সংখ্যক মহিলারা টেস্ট করাচ্ছেন বলে সরকারি তথ্যে কম মহিলাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে? নাকি কম সংখ্যক মহিলাদের মধ্যে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে যার জন্য টেস্টিং প্রয়োজন?‌‌ প্রমাণ এখন পর্যন্ত বলছে যে উভয়ই সত্য হতে পারে।

চলতি বছরের মে মাসে আইসিএমআর তাদের প্রকাশ করা বিশ্লেষণে জানিয়েছিল যে এক মিলিয়ন ডায়গনোস্টিক টেস্ট ২২ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছিল। দেখা গিয়েছে, যেখানে পজিটিভ কেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুরুষদের মধ্যে বেশি, সেখানে টেস্টের তুলনায় মহিলাদের পজিটিভ রিপোর্ট একটু বেশি। এই উদাহরণ বলে দিচ্ছে যে মহিলারা সেই আগেকার মতোই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে একেবারেই সচেতন নয়। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবীদ মুদিত কাপুর ২০১৬ সালে হাসপাতালের ওপিডি বিভাগগুলি পরিদর্শন করেন। সেখানে স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিভাগ বাদ দিয়ে সব মিলিয়ে ২.‌৩ মিলিয়নের বেশি রোগী সেখানে ছিল। তবে ওপিডিতে মহিলাদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি ছিল, প্রত্যেক মহিলাদের মধ্যে ১.‌৭ মিলিয়ন পুরুষ ওপিডিতে আসেন। এর কারণ একটা এটাও হতে পারে যে, বিশ্বজুড়ে করোনা বাইরাসে যেহেতু পুরুষদের সংখ্যা বেশি তাই এই মারণ রোগের গুরুত্ব মহিলাদের কাছে আর অতটা নেই। এই বিষয়টি নিয়ে ভারতে এখনও কোনও পরীক্ষা করা হয়নি। মহিলারা এই রোগের মারাত্মক রূপগুলির সংক্রমণের সম্ভাবনা কম বলেও মনে করেন যে ভারত এবং বিশ্বব্যাপী পুরুষদের তুলনায় কম মহিলারা কোভিডের কারণে মারা গিয়েছেন।

যাইহোক, এখন কিছু প্রমাণ রয়েছে যে ভারতের মহিলাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রকৃতপক্ষে কম নাও হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক প্রমাণগুলি মহিলাদের জন্য সম্ভাব্য জৈবিক সুবিধার দিকে ইঙ্গিত করে, তবে এটি ভারতে নারীদের যে লিঙ্গগত অসুবিধাগুলির মুখোমুখি হতে হয় এবং যার ফলস্বরূপ ভারতে মৃত্যুর ঝুঁকি উচ্চতর হতে পারে। জুনে এক জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি ও অন্যান্য জায়গায় মৃত্যুর ঝুঁকি ও রেকর্ড হওয়া মৃত্যুতে দেখা গিয়েছে যে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা বেশি। জানা গিয়েছে, ভারতে এ ধরনের নমুনা পাওয়ার কারণের পেছনে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জীবনধারণের ঝুঁকি রয়েছে কিন্তু একই সময়ে ভারতে মহিলারা অপুষ্টিজনিত কারণে ভুগছে। এর মধ্যে স্বল্প ওজন ও ওজন বাড়ার পাশাপাশি অপুষ্টির ঘাটতি উভয়ই রয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+