বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাইকোর্টের তোপের মুখে দিল্লি পুলিশ
দিল্লির একাংশ জ্বলছে হিংসার আগুনে। সিএএ নিয়ে শুরু হওয়া দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ২৩ জন। সংখ্যাটা আরও বাড়ার আশঙ্কা এখনও দূর হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর এই পরিস্থিতি নিয়ে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনকে। হাইকোর্টের প্রশ্ন, উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা সত্ত্বেও কেন তিনজন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করেনি দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের দিকে হাইকোর্ট প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় হাইকোর্ট
দিল্লি পুলিশের দিকে হাইকোর্ট প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে হাইকোর্ট বলে, 'এই নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে যত দেরি হবে তত পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে। এই নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের না হলে তা ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে।' প্রসঙ্গত, অবসরপ্রাপ্ত আমলা হর্ষ মন্দেরের দায়ের করা দিল্লি অশান্তি নিয়ে এক মামলার প্রেক্ষিতেই আজ এই শুনানি হয় দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে। হর্ষ মন্দের তাঁর দায়ের করা আবেদনে দাবি জানান যে, দিল্লিতে অবিলম্বে সেনা মোতায়েন করা হোক। এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তোলেন তিনি।

সুপ্রিমকোর্টেও ভর্ৎসনার শিকার হয় দিল্লি পুলিশ
এদিকে আজ সুপ্রিমকোর্টেও ভর্ৎসনার শিকার হয় দিল্লি পুলিশ। দিল্লির হিংসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পুলিশ। এই নিয়ে প্রকাশ্যে দিল্লি পুলিশকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও সলিসিটার জেনারেল কোর্টকে আবেদন জানায় দিল্লির হিংসা নিয়ে এমন কোনও সিদ্ধান্ত না নিতে, তাতে আরও মনোবল ভেঙে যাবে পুলিশের। এরপর বিচারপতি কে এম জোসেফ ব্রিটেন এবং আমেরিকার পুলিশের তৎপরতা এবং দক্ষতার উদাহরণ টেনে দিল্লি পুলিসের দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন কোথাও নিশ্চয় গলদ রয়েছে নইলে এমন ঘটতে পারে না। তবে দিল্লি হাইকোর্টে এই নিয়ে মামলা চলায় সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি হিংসা নিয়ে কোনও মামলা শুনতে চায়নি।

দিল্লিতে হিংসায় ২৩ জনের মৃত্যু
দিল্লিতে সিএএ নিয়ে শুরু হওয়া হিংসার রেশ এখনও জারি। এরই মধ্যে নতুন করে মৃত্যুর খবর আসছে দিল্লি থেকে। এই পরিস্থিতিতেই দিল্লিবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করে টুইট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিকে এরই মাঝে খবর পাওয়া যায় যে দিল্লির চাঁদবাগ এলাকার একটি নালা থেকে এক গোয়েন্দা অফিসারের পরিত্যক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দিল্লিতে সিএএ হিংসায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জখম কয়েকশ।

দিল্লিতে কোন কোন অঞ্চলে অশান্তি?
মূলত, দিল্লির মৌজপুর, বাবরপুর, কবিরনগর, পশ্চিম জ্যোতি নগর, গোকুলপুরীর গলিতে এই হিংসার ছবি নজরে পড়েছে বারবার। এহেন পরিস্থিতিতে আগেই কেন্দ্রের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করার আর্জি পেশ করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ইতিমধ্যেই গোষ্ঠী সংঘর্ষের মধ্যে দিল্লির সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য স্পেশাল সেল, ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার (ইডাব্লু) তরফ থেকে প্রায় ৩৫ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লি নির্বাচনের সময় থেকেই বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতাদের
এর আগে দিল্লি নির্বাচনের সময় থেকেই শাহিনবাগ ও সিএএ বিরোধীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায় বিজেপি নেতাদের। এরপর রবিবার ফের বিতর্ক উস্কে দিয়ে এক টুইট করেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। যার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে দিল্লির জাফরাবাদে। সাম্প্রদায়িক ও উত্তেজক টুইট করার জন্য পরিচিত কপিল জাফরাবাদের কাছে মৌজপুরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে একটি মিছিলে নেতৃত্বও দেন।

দিল্লি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে টুইট কপিল মিশ্রের
কপিল মিশ্র দিল্লি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে টুইট করে জানান, ওই এলাকার অবরুদ্ধ রাস্তা মুক্ত করতে হবে। তিনি লেখেন, 'তিন দিনের হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের জন্য। জাফরাবাদ ও চাঁদ বাগের রাস্তা ফাঁকা করে দিতে হবে। এরপর, আমাদের বোঝাতে এসো না। আমরা তোমাদের কথা শুনব না। তিন দিন।' ওই টুইটের সঙ্গে কপিল মিশ্র একটি ভিডিও-ও শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলছেন কপিল মিশ্র। আধিকারিককে তিনি বলছেন, 'ট্রাম্প চলে যাওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ থাকব। এরপরে আমরা এমনকী আপনাদের কথাও শুনব না যদি রাস্তা ফাঁকা না করে দেওয়া হয়।'












Click it and Unblock the Notifications