কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোয় গ্রেটার বিরুদ্ধে এফআইআর দিল্লি পুলিশের! পাল্টা জবাব বিশ্বখ্যাত পরিবেশবিদের
পুলিশি এফাআইরের জবাবে পাল্টা টুইট বিশ্বখ্যাত পরিবেশবিদ গ্রেটা থানবার্গের
ক্রমেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে দিল্লির কৃষক আন্দোলন। এদিকে গতকালই দিল্লির প্রতিবাদী কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে টুইট করতে দেখায় যায় বিশ্বখ্যাত পপস্টার রিহানা, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ, কমলা হ্যারিসের ভাইঝি মীণা হ্যারিস। যদিও আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটিদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সরকারের হয়ে মুখ খুলতে দেখা যায় ভারতের একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গকে। এমতাবস্থায় এবার আজই গ্রেটা থানবার্গের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে দেখা যায় দিল্লি পুলিশকে। এবার টুইটে তাঁর পাল্টা দিলেন এই বিশ্বখ্যাত পরিবেশবিদ।

গ্রেটার বিরুদ্ধে এফআইআর দিল্লি পুলিশের
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই পরিবেশবিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উস্কে দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। যে নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারতীয় রাজনীতিতেও। এদিকে এদিন দিল্লি পুলিশে এফআইআর দায়েরের খবর পাওয়া মাত্রই #StandWithFarmers, #FarmersProtest হ্যাশট্যাগে পাল্টা টুইট করতে দেখা যায় সুইডিশ পরিবেশবিদ গ্রেটা থানবার্গকে।

এখনও কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করি, সাফ বার্তা গ্রেটার
ওই টুইটেই ফের নিজের অনড় মনোভাবের কথা বুঝিয়ে দিলেন গ্রেটা থানবার্গ। স্পষ্ট ভাষায় তাকে লিখতে দেখা যায়, "আমি এখনও কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করি।" হ্যাশট্যাগ দেন, 'ফার্মারস প্রোটেস্ট ইন ইন্ডিয়া'। পাশাপাশি আরও বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতির কথাও জানাতে দেখা যায় তাকে। এর আগেই চলতি বছরে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনীত গ্রেটা ফেসবুকে তাঁর গোটা বিশ্বের ফলোয়ারদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে লেখেন, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি আপনারা সকলে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ কর্মসচির আয়োজন করুন। যা নিয়ে প্রবল আলোড়ন তৈরি হয় আন্তর্জাতিক রাজনীতির আঙিনায়।

চক্রান্তের তত্ত্ব খাড়া করছে সরকার
এদিকে আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটিরা কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খোলায় স্বভাবতই চাপে পড়তে দেখা যায় ভারত সরকারকে। গতকালই এই বিষয়ে কড়া বিবৃতি দিতে দেখা যায় বিদেশ মন্ত্রককে। এমনকী সরকারে সমর্থনে টুইটারে ব্যাট করতে নামতে দেখা যায় শচীন, সৌরভ, বিরাট কোহলি, লতা মঙ্গেশকর, কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদেরও। 'চক্রান্তের তত্ত্ব' খাড়া করতে দেখা যায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তবকেও।

কড়া ব্যবস্থা নিতে টুইটারকে চিঠি কেন্দ্রের
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃষক আন্দোলন সংক্রান্ত পোস্টে #ModiPlanningFarmerGenocide হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র। গতকাল টুইটার কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে ফের নোটিস পাঠিয়েছে বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। এমনকী ইতিমধ্যেই এই হ্যাশট্যাদ ব্যবহারকারী একাধিক নেতা, কৃষক সংগঠনের প্রায় ২৫০টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে টুইটার। এমতাবস্থায় গ্রেটা থানবার্গের প্রতিবাদ যে আন্তর্জাতিক আঙিনায় দিল্লির কৃষক আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
২৬ জানুয়ারি লালকেল্লায় ঢুকে গিয়েছিলেন কৃষকরা। এই ঘটনায় লাইভ ভিডিও প্রচারের অভিযোগে অখিল ভারতীয় পরিবার পার্টির নেতা ধর্মেন্দ্র সিং হারমান্দকে ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনায় ইন্ধন জোগানোর পাশাপাশি জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই দলের অভিযোগ, সিঙ্ঘু সীমান্তে একটা বড় সংখ্যায় রয়েছেন, তাঁদের সমর্থকরা। তাতেই ভীত হয়েছে সরকার। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে ধর্মতলায় বিক্ষোভ দেখান দলের কর্মী সমর্থকরা। এই দলে ছিলেন, রাউত ভারতীয়, গৌতম ভারতীয়, সঞ্জয় পাণ্ডে ভারতীয়, রাউত ভারতীয়।












Click it and Unblock the Notifications