ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা আরও প্রবল বঙ্গোপসাগর-আরব সাগরে! কোন কোন উপকূলে বিপদ, জানাল গবেষণা
ঘূর্ণিঝড় আরও শক্তিশালী রূপ নিয়ে ধেয়ে আসবে বাংলা ও ভারতের উপকূলে, সতর্কবার্তা গবেষণায়
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ বাংলা-সহ ভারতের পূর্ব উপকূলে ত্রাস সৃষ্টি করে গেল শীতের মরশুমে। ডিসেম্বর বিরল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে জাওয়াদ আছড়ে না পড়লেও দুর্যোগের ঘনঘটা কম ছিল না দু-তিনদিন ধরে। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শুরু করে ওড়িশা, বাংলার উপকূল কাঁপিয়েছে ঘূর্ণিঝড়। এরপরই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আশঙ্কার বার্তা দিয়েছে মৌসম ভবন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও মান্যতা দিয়েছে সেই বার্তার।

যত দিন যাচ্ছে ততই ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে দেশে
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভারতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে। বাংলা তথা ভারতে এখন বছরে নিদেনপক্ষে চার-পাঁচটি বড় মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যাটা বাড়বে বলেই মনে করছে মৌসম ভবন। কয়েক বছর আগেও দেখা গিয়েছে বছরে এক-আধটা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে। এখন যত দিন যাচ্ছে ততই ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে দেশে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাড়বে এবং কঠিন হবে পরিস্থিতি
শীত পেরিয়ে গরমের হাওয়া ফুটলেই দেশে ঘূর্ণিঝড়ের চোখ রাঙানি শুরু হয়। এবারও তেমন পূর্বাভাস রয়েছে আবহাওয়া দফতরের। আসন্ন মরশুমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড় বাড়ার সমূহ সম্ভাবনার কথা জানায় মৌসম ভবন। ফলে আগামী দিনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাড়বে এবং কঠিন হবে পরিস্থিতি। সময় যত এগোবে ততই প্রকৃতির রোষানলে পড়বে।

সাগর অশান্ত এবং অস্থির হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় বাড়বে
মৌসম ভবনের আবহবিদরা ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতার কারণও ব্যাখ্যা করছেন। আবহবিদরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ত্রমবর্ধমান তাপমাত্রাই দায়ী ঘূর্ণিঝড়ের বাড়বৃদ্ধির জন্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অশান্ত হয়ে উঠছে সাগর। ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরও অশান্ত। সমুদ্র গর্ভের তাপমাত্রাও বাড়ছে। ফলে সাগর অশান্ত এবং অস্থির হয়ে উঠছে। তারই প্রভাবে নিম্নচাপ ক্রমই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে।

সতর্কবার্তায় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়বে বলেই উল্লেখ
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি বিশ্লেষণ করেছেন ১৮৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঝড়ের ইতিহাস। ১২৯ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করে কিছু আগাম সতর্কতা দিয়েছে। সেই সতর্কবার্তায় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়বে বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কবার্তায় দেওয়া হয়েছে আবহবিদদের তরফে।

দুর্যোগপূর্ণ গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া কাটবে বাংলায়!
বিগত তিন বছরে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে রেকর্ড হারে। বিজ্ঞানীরা উত্তর ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা এবং ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বেশি। এবং তা উত্তরোত্তর বাড়বে। ফলে দুর্যোগপূর্ণ গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া কাটবে বাংলা তথা পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে।

ভারতের পশ্চিম উপকূলও সংকটের মুখে
বিশেষজ্ঞরা জানান, আরব সাগরে সৃষ্ট প্রায় সমস্ত ঘূর্ণিঝড়ই ওমান ও ইয়েমেন উপকূলে আছড়ে পড়ে। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে- ভারতের পশ্চিম উপকূলেও আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড়। মুম্বইয়ে নিসর্গ আছড়ে পড়েছিল দীর্ঘ বছর পর। সাম্প্রতিক বছরে ঘূর্ণিঝড় তাউকটেও তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল পুরো পশ্চিম উপকূলে। পরে গুজরাট উপকূলে তা আছড়ে পড়েছিল।

১২৯ বছরের ইতিহাসে যে প্রবণতা ঘূর্ণিঝড়ের
বিশেষজ্ঞরা, ভারতের পশ্চিম উপকূলের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট নিয়েই বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বঙ্গোপসাগরের উপকূল অর্থাৎ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের পূর্ব উপকূলে তো ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রবণতা ছিলই। এখন আরব সাগরের উপকূলও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ হয়ে উঠছে। অন্তত ১২৯ বছরের ইতিহাস ঘেঁটে সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনা করে এমন প্রবণতাই লক্ষ্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরও বাড়বে, বাড়বে বিপত্তি
মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, আগাম সতর্কবার্তা বা পূর্বাভাসের ফলে প্রাণহানির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। কিন্তু সম্পদ ক্ষতির মাত্রা কমানো দুরুহ হয়ে উঠেছে। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই আবহাওয়াজনিত সমস্যা হয়ে চলেছে। দু-দশকের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরও বাড়বে, তখন এই ঘূর্ণিঝড়-সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাবে।

বাড়বে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ, সাবধান করলেন আবহবিদরা
শুধু আবহাওয়া দফতর বা মৌসম ভবনই নয়, রাষ্ট্রসংঘের তরফেও জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন আশঙ্কার কথা বলে হয়েছে যে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা দুই দশকের মধ্যে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে উষ্ণায়ন আরও বাড়বে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে গলতে শুরু করবে হিমবাহ। বাড়বে বিপদ। সাবধান করলেন আবহবিদরা।












Click it and Unblock the Notifications