ভ্যাকসিনের হাহাকার! সঙ্কটকালে কীভাবে দানের জন্য টিকা-ওষুধ পাচ্ছেন তারকারা? প্রশ্ন বম্বে হাইকোর্টের
ভ্যাকসিনের হাহাকার! সঙ্কটকালে কীভাবে দানের জন্য টিকা-ওষুধ পাচ্ছেন তারকারা? প্রশ্ন বম্বে হাইকোর্টের
দেশ জুড়ে জোরকদমে চলছে কোভিড টিকাকরণ। যদিও টিকার জোগানে ভাটা সহ পরিকাঠামোগত সমস্যার জন্য কমছে টিকাকরণের হার। অন্যদিকে রাজ্যের হাতে নেই পর্যাপ্ত টিকা, কিন্তু তারকা ও রাজনীতিকরা দেদার বিলোচ্ছেন রেমডিসিভির ও করোনা ভ্যাকসিনের মতো মূল্যবান ওষুধ। এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি প্রশ্ন তুলল বম্বে হাইকোর্ট।

তারকাদের দান করা ওষুধে সমস্যায় পড়ছেন রোগীরা?
সম্প্রতি সেলেব ও রাজনীতিকদের মাধ্যমে বিলি হওয়া কোভিড টিকা ও অন্যান্য ওষুধের সম্পূর্ণ তালিকা হাইকোর্টে পেশ করে মহারাষ্ট্র প্রশাসন। এরপরেই প্রধান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জি এস কুলকার্নির বেঞ্চের সাফ বক্তব্য, "ওষুধ বা টিকার ক্ষেত্রে কোনোরকমের সামাজিক পরিচয় কাজে লাগানো অপরাধ। যাঁদের সত্যিই টিকার দরকার, তাঁরা হয়তো পাচ্ছেনই না।" ইতিমধ্যে মুম্বইয়ের কংগ্রেস সাংসদ জিশান সিদ্দিকী ও অভিনেতা সোনু সুদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এই মর্মে নোটিশ পাঠালেও কোনোরকমের উত্তর পায়নি প্রশাসন।

অভাবে রাজ্য, ওষুধ পকেটস্থ তারকাদের!
লাইসেন্স ছাড়া কীভাবে বিলি হচ্ছে ওষুধ, সে প্রশ্নে সরাসরি মহারাষ্ট্র সরকারকে বিদ্ধ করেছে আদালত। সরকারের তৎপরতায় যে খুশি নয় হাইকোর্ট, তাও বুঝিয়ে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানি চলাকালীন আইনজীবী রাজেশ ইনামদার বেঞ্চকে জানান, "বাজারে ওষুধ-টিকা না পেয়ে ট্যুইটার মারফত তারকাদের অভাবের কথা জানান নাগরিকরা।" যদিও রাজ্য সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকলেও এহেন পরিস্থিতিতে রেমডিসিভির ও টোসিলিজুবামের ন্যায় মহার্ঘ ওষুধ কীভাবে রাজনীতিক ও বলিতারকাদের হাতে আসছে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক মহলে অব্যাহত ধোঁয়াশা।

"হিমশৈলের চূড়া মাত্র!"
রেমডিসিভির বা অন্যান্য ওষুধ চেয়ে ট্যুইটের কিছু সময়ের মধ্যেই তারকাদের তরফে কীভাবে ভায়াল পৌঁছেছে নাগরিকদের কাছে, বেঞ্চের সামনে তার নথি পেশ করেন ইনামদার। পাশাপাশি কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং জানান, "কেন্দ্রের তরফে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। যদিও অক্সিজেন, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী এবং রেমডিসিভিরের মত বেশ কিছু ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে রাজ্য নিজের বিশেষ ক্ষমতা কাজে লাগায়, তাই এক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিশেষ ভূমিকা নেই।"

ক্ষতির দায়ভার নেবে কে?
রাজ্যের বিশেষ চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্র পরে সামগ্রী সরবরাহ করে বলে জানান অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং। যদিও এরই মাঝে তারকা বা রাজনীতিকদের বিলি করা সামগ্রীর গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। এহেন ওষুধ ব্যবহার রোগীদের কোনো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলে তার দায়ভার কে নেবে? সে প্রশ্ন আদালত সরাসরি ছুঁড়ে দিয়েছে রাজ্যের দিকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিশদ রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ গিয়েছে রাজ্য-কেন্দ্রের কাছে।












Click it and Unblock the Notifications