পঞ্জাব এবার কার পক্ষে! কংগ্রেস নাকি আপ, একনজরে এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষা
পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে কি কংগ্রেস গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখে শেষ হাসি হাসতে পারবে, নাকি আপের উত্থান হবে এবার? বিজেপিরই বা কতটা সম্ভাবনা, এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষায় উঠে এলে সেই আভাস।
পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে কি কংগ্রেস গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখে শেষ হাসি হাসতে পারবে, নাকি আপের উত্থান হবে এবার? বিজেপিরই বা কতটা সম্ভাবনা, এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষায় উঠে এলে সেই আভাস। আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি বা আপ, শিরোমণি অকালি দল বা এসএডি এবং কংগ্রেসের মধ্যে কাঁটে কা টক্করের আভাস আভাস এবার।

পঞ্জাব নির্বাচনের জন্য এবিপি-সি ভোটার সমীক্ষা
উত্তরপ্রদেশের মতো পঞ্জাব নির্বাচনের জন্য এবিপি-সি ভোটার সমীক্ষা করে। উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, গোয়া এবং পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচন বছর ঘুরলেই। উত্তরপ্রদেশের মতো পঞ্জাব নিয়েও এবার উৎসাহ তুঙ্গে। কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফায়দা কেউ তুলতে পারে কি না, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। পঞ্জাব নিয়ে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য দল এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজিয়ে এগোচ্ছে।

নির্বাচনের আগে কংগ্রেস হঠাৎই ব্যাকফুটে
পঞ্চ নদের তীরবর্তী পঞ্জাবে বহু রাজনৈতিক দল কোমর বাঁধছে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা দখলের। বিগত নির্বাচনগুলিতে পঞ্জাবে কংগ্রেসের আধিপত্য বজায় থাকলেও, এবার নির্বাচনের আগে কংগ্রেস হঠাৎই ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছে। আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির উত্থানের সম্ভাবনা প্রবল। কংগ্রেসকে টপকে আপ হয়ে উঠতে পারে পঞ্জাবের বৃহত্তম দল। লড়াই দিতে তৈরি শিরমণি অকালি দলও।

২০১৭ সালের নির্বাচনে কার কত আসন
১১৭ সদস্যের পঞ্জাব বিধানসভায় ২০১৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৭৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতাসীন দলে পরিণত হয়েছিল এবং আপ ২০টি আসন পেয়েছিল। এসএডি এবং বিজেপি জোট গতবারের মতো তৃতীয় বৃহত্তম ফ্রন্ট হিসেবে ১৮টি আসন পেয়েছিল। ২০১৭ সালের সেই নির্বাচনের পর থেকে অনেক কিছু ঘটেছে। কেন্দ্রের প্রবর্তিত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভের কারণে গত বছর এসএডি-বিজেপি জোট ভেঙে যায়। এসএডি এবার বিএসপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়ছে।

কংগ্রেস এখন দু-ভাগ পঞ্জাবে
কংগ্রেস, যা ২০১৭ সালে মসৃণ জয় হাসিল করার পর পঞ্জাবে আধিপত্য বিস্তার করছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাদের দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়েছে সম্প্রতি। মুখমন্রীঞ্ অমরিন্দর সিংকে সমর্থন করছে একদল, অন্য দল নবনিযুক্ত কংগ্রেস প্রদেশ কমিটির সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধুর সঙ্গে রয়েছে। ফলে কংগ্রেস এখন দু-ভাগ পঞ্জাবে।

ম্যাজিক ফিগারের কাছে পৌঁছে যাবে আপ
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ ২০১৭ সালে হিসাবের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে তারা বৃহত্তম দল হয়ে উঠতে পারে। ম্যাজিক ফিগারের কাছে পৌঁছে যাবে আপ, এমনটাই আভাস মিলেছে এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষায়। এবিপি নিউজ-সি ভোটার মন বোঝার চেষ্টা করেছে পঞ্জাবের। আগামী বছর ভোটাররা কোন দলকে ক্ষমতায় আনতে পারে, তার আভাস দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এই সমীক্ষায়।

২০১৭ থেকে ২০২২, কংগ্রেসের ভোট শতাংশ
এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ক্ষমতাসীন কংগ্রেস আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের একটি অংশ হারাবে। সমীক্ষা অনুসারে, কংগ্রেস এবার ২৮.৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। ২০১৭ সালের সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৩৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সেই নিরিখে প্রায় ১০ শতাংশ ভোট হারাতে পারে কংগ্রেস।

২০১৭ থেকে ২০২২, আপের ভোট শতাংশ
এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষায় পূর্বাভাস, আম আদমি পার্টি জনসমর্থন আদায় করে নিতে সমর্থ হয়েছে পঞ্জাবে। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এবার তাদের ভোট শতাংশ ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, আম আদমি পার্টি বা আপ রাজ্যের মোট ভোটের ৩৫.১ শতাংশ পেতে পারে এবার।

২০১৭ থেকে ২০২২, এসএডি-র ভোট শতাংশ
শিরোমণি আকালি দলও এবার পরিকল্পনা করেই এগোচ্ছে। তারা এবার এককভাবে লড়বে। ২০১৭-র থেকে ৩.৪ শতাংশ ভোট হ্রাস পাচ্ছে তাদের। এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী, এসএডি-র ভোট শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে ২১.৮ শতাংশ হবে। ২০১৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে ২৫.২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল শিরোমণি অকালি দল বা এসএডি।

কার কত ভোট শতাংশ
২০১৭ ও ২০২২-এর সম্ভাব্য ভোট শতাংশের তুলনায়
কংগ্রেস ২০১৭ সালে ৩৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, এবার তারা পেতে পারে ২৮.৮ শতাংশ। এসএডি পেয়েছিল ২৫.২ শতাংশ, এবার পেতে পারে ২১.৮ শতাংশ। আম আদমি পার্টি বা আপ পেয়েছিল ২৩.৭ শতাংশ, পেতে পারে ৩৫.১ শতাংশ। বিজেপি পেতে ৫.৪ থেকে বেড়ে ৭.৩ শতাংশে পৌঁছতে পারে। অন্যান্যরা পেতে পারে ৭.২ থেকে কমে ৭ শতাংশ।

কার কত আসন
কংগ্রেস এবার তাদের প্রায় ৩৫টি হারিয়ে ৭৭ থেকে ৪২-এ নেমে আসতে পারে। এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫৫টি আসন নিয়ে ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে আপ। কংগ্রেসকে টপকে তারা হয়ে উঠতে পারে পঞ্জাবের বৃহত্তম দল। আপ ২০১৭-র থেকে এবার বিধানসভা নির্বাচন ৩৫টি আসন বেশি পেতে পারে। শিরোমণি অকালি দলের ভোট শতাংশ কমলেও তারা এবার ১৫ থেকে বেড়ে ২০ হতে পারে। বিজেপি ৩ থেকে কমে শূন্য হয়ে যেতে পারে ভোট বাড়িয়েও।












Click it and Unblock the Notifications