অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স! মানুষের সঙ্গে ব্যবহার নিয়ে রাজ্যের পুলিশকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের
নিয়োগপত্র হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি অনুষ্ঠান। রাজ্য পুলিশের সেই অনুষ্ঠানেই পুলিশের উদ্দেশে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের।
একটা সময়ে উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলার ছবিটা বারে বারে সামনে এসেছে। তবে বিজেপির দাবি অনুযায়ী, যোগী শাসনে আইনের শাসন ফিরেছে উত্তর প্রদেশে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনের শাসনই তার সরকারের প্রথম শর্ত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশকে সম্মানের পাশাপাশি দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী রবিবার হাজির ছিলেন উত্তর প্রদেশ পুলিশের এক অনুষ্ঠানে। উত্তর প্রদেশ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড প্রোমোশন বোর্ড ৯০৫৫ জন সাব ইনস্পেক্টর এবং প্ল্যাটুন কমান্ডার এবং ফাসার অফিসারকে পরীক্ষার মাধ্যমে বেছে নিয়েছে। তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে মিশন এমপ্লয়মেন্ট চালু করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ছয় বছর আগে রাজ্যের যুবকদের মধ্যে যাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতেন, রাজ্যের বাইরে গেলে তাঁদেরকে পরিচয় লুকোতে হত। আর এখন তাঁরা নিজেদের জেলার নাম উল্লেখ করতে পারেন। বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আইনের শাসনের প্রথম শর্ত
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সুশাসনের প্রথম শর্ত হল নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশের শক্তি বজায় রাখার পাশাপাশি প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের সম্মান নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি। পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে কাজ করেন। তাই পুলিশের ইকবালকে চ্যালেঞ্জ করতে গেলে যে কারও ভয় পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশকে সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ হতে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে অপরাধীদের সঙ্গে মোকাবিলার সময় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার কথাও স্মরণ করিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে তৈরি হতে হবে
মুখ্যমন্ত্রী বলেছন সময় পরিবর্তনশীল। তার সঙ্গে পুলিশকর্মীদেরও নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে হবে। আগে অপরাধের ক্ষেত্রে যে ভৌগলিক চ্যালেঞ্জ ছিল, তা এখন পরিবর্তন হয়েছে। যদি অপরাধীদের থেকে ১০ পা এগিয়ে ভাবা যায়, তেই তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অপরাধীদের মোকাবিলায় সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনের কথা উল্লেখ করেন।

মানুষের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেছেন, রাজ্য সরকার মহিলাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত কাজ করেছে। তিনি বলেছেন ই-প্রসিকিউশন কার্যকর করার ক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশ দেশের এগিয়ে থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে একটি। রাজ্যের সাতটি শহরে পুলিশ কমিশনারেট তৈরি করার কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে মানুষের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হয়েছে, দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, একটা সময় বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ব্যবসা বন্ধ করে রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে ২০১৭-র পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি শেষ হওয়া গ্লোবাল ইনভেস্টরস সামিটে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিনিয়োগকারীরা উত্তর প্রদেশে এসেছেন। প্রায় ২৫ হাজার বিনিয়োগকারী ৩৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications