গ্যাসের সঙ্কট ও কালোবাজারি ঠেকাতে কড়া কেন্দ্র, বাড়ছে পাইপ গ্যাসের সরবরাহ
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায়।গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় আগেভাগেই সতর্ক হয়ে উঠেছে কেন্দ্র। এলপিজি সিলিন্ডারের কালোবাজারি ঠেকাতে কড়া নজরদারির পাশাপাশি শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস (পিএনজি) সরবরাহ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, শহরগুলিতে পাইপ গ্যাসের পরিধি দ্রুত বাড়াতে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (সিজিডি) সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যগুলিকেও এলপিজির মজুতদারি ও বেআইনি বেচাকেনা রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা ও ইরান সহ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির যোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাব পড়তে পারে দেশের রান্নার গ্যাসের সরবরাহে এই আশঙ্কায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় কেন্দ্র।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এলপিজির উৎপাদন প্রায় ৩৬ শতাংশ বাড়ানো হলেও চাহিদা বেড়েছে আরও দ্রুত হারে। অনলাইন বুকিংও বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, পেট্রোপণ্যবাহী জাহাজ শিবালিক ও নন্দাদেবী দেশে পৌঁছনোর পথে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে ও এখনও পর্যন্ত কোথাও জ্বালানি ঘাটতির খবর মেলেনি।
গৃহস্থালি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। তবে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। বড় শহরগুলিতে হোটেল, রেস্তরাঁ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের পিএনজিতে রূপান্তরিত হতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট সঙ্কটের সম্ভাবনা থাকলেও আতঙ্কের কারণ নেই। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় জ্বালানির যোগান স্বাভাবিক রাখতেই এখন জোর দিচ্ছে সরকার।












Click it and Unblock the Notifications