একুশের উপনির্বাচনে কোন দলের সাফল্য বেশি, বর্ষশেষে ফিরে দেখা একনজরে
একুশের উপনির্বাচনে কোন দলের সাফল্য বেশি, বর্ষশেষে ফিরে দেখা একনজরে
২০২১ শেষ। নতুন বছরের শুভারম্ভের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিশ্ব। রাজনীতিতেও নতুন বছরে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে রাজনৈতিক দলগুলি। কারণ ২০২২ দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সামনেই ২০২৪-র লোকসভা নির্বাচন। তার আগে ২০২১-এ দেশের অনেক কেন্দ্রেই উপনির্বাচন হয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভার সেই উপনির্বাচন কী ইঙ্গিত করছে তা ফিরে দেখা নতুন বছরের প্রাক্কালে।

সংসদীয় উপনির্বাচন
মোট সাতটি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছে ২০২১। তার মধ্যে তিনটি কেন্দ্র ছিল বিজেপির দখলে, একটি কংগ্রেসে, একটি ওয়াইএসআর কংগ্রেস, একটি ইন্ডিয়ার ইউনিয়ন মুসলিম লিগ ও একটি বিজেপি সমর্থিত নির্দলের দখলে। কিন্তু উপনির্বাচনে বিজেপি দুটি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হলেও, একটি আসন কংগ্রেস ছিনিয়ে নেয়। আর বিজেপি সমর্থিত নির্দলকে হারিয়ে অপর আসনটির দখল নেয় শিবসেনা। বাকি তিনটি আসন কংগ্রেস, ওয়াইএসআর কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ দখলে রাখে। উপনির্বাচনে লাভবান হয় কংগ্রেস ও বর্তমানে তাদের জোটসঙ্গী শিবসেনা।

অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় উপনির্বাচন
অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভার একটি আসনে উপনির্বাচন হয় ২০২১-এ। বাদভেল আসনটি ওয়াইএসআর কংগ্রসের দখলে ছিল। উপনির্বাচনের পর তাদের দখলেই রই। নতুন বিধায়ক হলেন দশারি সুধা। অন্ধ্রপ্রদেশে জগনমোহন রেড্ডির আধিপত্য বজায় রইল বছর শেষেও। ৩০ অক্টোবর এই কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়।

অসম বিধানসভায় উপনির্বাচন
অসম বিধানসভায় মোট পাঁচটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। ৩০ অক্টোবর পাঁচটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি তিনটি আসন দখল করে নেয়। কংগ্রেসের কাছ থেকে দুটি এবং এআইইউডিএফের কাছ থেকে একটি কেন্দ্র ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। ইউপিপিএল একটি আসন দখল করার পাশাপাশি একটি আসন ছিনিয়ে নেয় বিপিএফের কাছ থেকে। বিজেপির আসন আরও মজবুত হয় এই রাজ্যে।

বিহার বিধানসভায় উপনির্বাচন
বিহারে দুটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। দুটি কেন্দ্রই দখলে রাখে জনতা দল ইউনাইটেড। কুশেশ্বর আস্থান ও তারাপুর কেন্দ্রে জিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল নীতীশ কুমারের দল। আমান ভূষণ হাজারি ও রাজীব কুমার সিং বিধায়ক নির্বাচিত হন ৩০ অক্টোবরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে।

গুজরাটে বিধানসভায় উপনির্বাচন
গুজরাটে একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্র উপনির্বাচন হয়। মারাভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন বিজয়ী হয় বিজেপি। নির্দল বিধায়কের কাছ থেকে এই কেন্দ্রে জিতে বিধায়য়ক নির্বাচিত হন বিজেপির নিমিশা সুথার। মোদী-রাজ্যে বিজেপির অগ্রগতি অব্যাহত এর ফলে। ১৭ এপ্রিল এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়।

হরিয়ানায় বিধানসভায় উপনির্বাচন
হরিয়ানায় বিধানসভা উপনির্বাচনে একটি মাত্র কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রটি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোকদলের অধীনে ছিল। ৩০ অক্টোবর উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রটিতে উপনির্বাচন হয়। নির্বাচনের পরেও লোক দলের অধীনে থাকে আসনটি। অভয় সিং চৌতালা বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ফের নির্বাচিত হন ওই কেন্দ্র থেকে।

হিমাচলপ্রদেশ বিধানসভায় উপনির্বাচন
হিমাচলপ্রদেশের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। ফতেপুর, অর্কি, জুব্বল কোতখাই কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়। এর মধ্যে ফতেপুর ও অর্কি ছিল কংগ্রেসের দখলে। কংগ্রেস দুটি আসন ধরে রাখতে সমর্থ হয়। আর জুব্বল কোতখান ছিল বিজেপির দখলে। ওই আসনটি বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় কংগ্রেস। ৩০ অক্টোবর বিধানসভার উপনির্বাচনে উলটপুরান হল হিমাচল প্রদেশের ওই আসনে।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় উপনির্বাচন
ঝাড়খণ্ডে একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। ১৭ এপ্রিয় মাধুপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে রাজ্যের শাসকদল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা নিজেদের দখলে রাখতে সমর্থ হয় আসনটিকে। মাধুপুরা উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হন হেম্নত সোরেনের দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হাফিজুল হাসান।

কর্নাটক বিধানসভায় উপনির্বাচন
কর্নাটক বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় চারটি কেন্দ্রে। ১৭ এপ্রিল দুটি কেন্দ্রে ভোট হয়। আর ৩০ অক্টোবর হয় দুটি কেন্দ্রের ভোট। প্রথম দফায় বাসবকল্যাণ ও মাস্কি কেন্দ্রে ভোট হয়। বাসবকল্যাণ কেন্দ্রটি কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। আর মাস্কি ধরে রাখে কংগ্রেস। দ্বিতীয় দফায় বোট হয় সিন্দাগি ও হাঙ্গলে। সিন্দাগি আসনিট জেডিএসের কাছে থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। আর হাঙ্গল কেন্দ্রটি বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় কংগ্রেস।

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় উপনির্বাচন
মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় চারটি কেন্দ্রে। ১৭ এপ্রিল ভোট হয় একটি কেন্দ্রে। ৩০ অক্টোবর ভোট হয় তিনটি কেন্দ্রে। ১৭ অক্টোবর দামো কেন্দ্রের ভোটে কংগ্রেস তাদের জেতা আসনটি ধরে রাখতে সমর্থ হয়। আর পরের দফায় তিন কেন্দ্রের ভোট কংগ্রেসের কাছ থেকে পৃথ্বীপুর ও জোবাট কেন্দ্রটি কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। আর রায়গাঁ কেন্দ্রটি বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় কংগ্রেস।

মহারাষ্ট্র বিধানসভায় উপনির্বাচন
মহারাষ্ট্র বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় দুটি আসনে। ১৭ এপ্রিল পান্ধারপুর আসনের উপনির্বাচনং কংগ্রেস হাতছাড়া করে আসনটি। বিজেপি জয়যুক্ত হয়। আর ৩০ অক্টোবর দেগলুপুর আসনটি কংগ্রেস দখলে রাখতে সমর্থ হয়। জিতেশ অন্তপুরকার এই আসনে জিতে নব নির্বাচিত বিধায়ক হন।

মেঘালয় বিধানসভায় উপনির্বাচন
মেঘালয় বিধানসভায় ৩০ অক্টোবর উপনির্বাচন হয় তিনটি কেন্দ্রে। তার মধ্যে দুটি কেন্দ্র মাউরিখেং ও রাজাবালা হাতছাড়া হয় কংগ্রেসের। দুটিতেই জয়ী হয় ন্যাশনাল পিপলস পার্টি। আর মাওফ্লাং কেন্দ্রে নির্দল বিধায়ক ছিলেন। সেই কেন্দ্রটি ইউনাইডেট ডেমোক্রেটিক পার্টি জয় লাভ করেন। আদতে কংগ্রেসের ক্ষতি হয় মেঘালয়ে।

মিজোরাম বিধানসভায় উপনির্বাচন
মিজোরাম বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় দুটি কেন্দ্রে। ১৭ এপ্রিল শেরচিপে এবং ৩০ অক্টোবর তুইরিয়ালে। শেরচিপ কেন্দ্রটি দখলে রাখতে সমর্থ হয় আঞ্চলিক দল জোরাম পিপলস মুভমেন্ট। কিন্তু তুইরিয়াল কেন্দ্রে জোরাম পিপলস মুভমেন্টকে হারিয়ে জয়ী হয় মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট। জোরাম পিপলস মুভমেন্টের হাতছাড়া হয় আসনটি।

নাগাল্যান্ড বিধানসভায় উপনির্বাচন
নাগাল্যান্ড বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় দুটি কেন্দ্রে। ১৭ এপ্রিল নোকসেন কেন্দ্রে এবং ৩০ অক্টোবর শামেতোর চিসোর কেন্দ্রে। দুটি কেন্দ্রই ছিল ন্যাশানালিস্ট ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির দখলে। উপনির্বাচনেও ন্যাশানালিস্ট ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি বা এনডিপিপি-র দখলে থাকে আসন দুটি।

ওড়িশা বিধানসভায় উপনির্বাচন
ওড়িশা বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় একটি মাত্র আসনে। ৩০ সেপ্টেম্বর পিপিলি আসনে উপনির্বাচন সংঘটিত হয়। এই আসনটি দখলে রাখতে সমর্থ হয় ওড়িশার শাসক বিজু জনতা দল। প্রদীপ মহারথীর ছেড়ে যাওয়া আসনে বিধায়ক নির্বাচিত হন রুদ্রপ্রতাপ মহারথী।

রাজস্থান বিধানসভায় উপনির্বাচন
রাজস্থান বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় মোট পাঁচটি কেন্দ্রে। তার মধ্যে ১৭ এপ্রিল ভোট হয় তিনটি কেন্দ্রে। বাকি দুটি কেন্দ্রে ভোট হয় ৩০ অক্টোবর। প্রথম দফায় ভোট হওয়া সুজনগড় ও সাহারা কেন্দ্র ছিল কংগ্রেসের দখলে। উপনির্বাচনেও কংগ্রেস দখলে রাখে আসন দুটি। রাজসামান্দ বিজেপি দখলে রাখে। আর দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় বল্লভনগর ও ধারিয়াড়ে। প্রথমটি কংগ্রেসের এবং দ্বিতীয়টি ছিল বিজেপির। দুটিই দখল করে কংগ্রেস।

তেলেঙ্গানা বিধানসভায় উপনির্বাচন
তেলেঙ্গানা বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় দুটি কেন্দ্রে। নাগার্জুনা সাগরে ভোট হয় ১৭ এপ্রিল। এই কেন্দ্রটি ছিল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির দখলে। এই আসনটি তারা ধরে রাখে। আর ৩০ অক্টোবর ভোট হয় হুজুরাবাদে। এই কেন্দ্রটি তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি।

উত্তরাখণ্ডে বিধানসভায় উপনির্বাচন
উত্তরাখণ্ডে বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় একটি মাত্র আসনে। ১৭ এপ্রিল সল্ট আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয় বিজেপি। বিজেপির সুরেন্দ্র সিং জুনা এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হন মহেশ সিং জুনা।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় উপনির্বাচন
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় উপনির্বাচন হয় পাঁচটি কেন্দ্রে। ভবানীপুরে উপনির্বাচন হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। আর খড়দহ, শান্তিপুর, গোসাবা, দিনহাটা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয় ৩০ অক্টোবর। পাঁচটি কেন্দ্রেই জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস। দিনহাটা ও শান্তিপুর বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। অন্য তিনটি তৃণমূলের দখলেই ছিল।












Click it and Unblock the Notifications