মহাকাশ থেকে বীরত্ব, প্রজাতন্ত্র দিবসে অশোকচক্র পেতে চলেছেন শুভাংশু শুক্লা
ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা আবারও ইতিহাস গড়তে চলেছেন। আগামীকাল প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন শৌর্য সম্মান 'অশোক চক্র' তুলে দেওয়া হবে এই মহাকাশযাত্রী অফিসারের হাতে। গতবছর জুনে তাঁর ১৮ দিনের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) অভিযানের সাফল্যই এনে দিচ্ছে এই বিরল সম্মান।
শুক্লা ছিলেন 'অ্যাক্সিওম ৪' ক্রুর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যার মাধ্যমে তিনি হলেন দেশের দ্বিতীয় মানুষ মহাকাশে, ও সর্বপ্রথম যিনি আইএসএসনএ প্রবেশ করলেন। নাসা সহ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার সেই মিশন ভারতের কাছে ছিল সহনশীলতা, দক্ষতা ও কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক কঠিন পরীক্ষা। কক্ষপথে অবস্থানকালে শুক্লা সম্পন্ন করেছিলেন জটিল মাইক্রোগ্র্যাভিটি গবেষণা, যার তথ্য ভবিষ্যৎ 'মহাকাশযান' অভিযানে মহাকাশচারীদের টিকে থাকার কৌশল গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।

অশোক চক্র প্রদানের সিদ্ধান্ত যেন জানিয়ে দিল বীরত্ব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, মহাকাশও দাবি করে নিজস্ব সাহস, সিদ্ধান্ত ও তীক্ষ্ণতা। বহু দেশের প্রযুক্তি ও শাসনব্যবস্থার মিলনস্থল সেই মহাকাশ স্টেশনে কঠিন বিজ্ঞানচর্চা চালিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে অসাধারণ অর্জন। আর তার ফলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতকে আরও জোরালো মহাকাশ শক্তি হিসেবে মানতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব।
আজ তাঁর নাম শুধু প্রতিরক্ষা মহলেই নয়, ঘরের অন্দরেও পরিচিত বিমানের ককপিট থেকে শুরু করে মহাকাশের বিশাল নীলকে ছুঁয়ে ফেলার গল্প লক্ষ তরুণের কল্পনাকে আলোড়িত করেছে। ভারত যখন নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনায় এগোচ্ছে, তখন শুক্লার অভিজ্ঞতা অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠবে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চে যখন তিরঙ্গা উড়বে, তখন শুভাংশু শুক্লার বুকে সজ্জিত অশোক চক্র শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয় এ এক জাতির স্বপ্ন ও সাহসের প্রতীক। যে দেশ একদিন দূর থেকে তারার দিকে তাকিয়ে ছিল, সে আজ তাদের মাঝে কাজ করে চলেছে। মহাকাশকে কয়েক ধাপ কাছে টেনে এনেছেন ভারতের এই নতুন নক্ষত্র।












Click it and Unblock the Notifications