বন্ধু সেজে অন্ধ মহিলাকে ধর্ষণ অন্ধ ব্যাঙ্ককর্মীর, তারপর যা হল তাতে মহিলাকে কুর্নিশ করতে বাধ্য হবেন
দৃষ্টিহীন মহিলাকে ধর্ষণের দোষী সাব্যস্ত হল এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি। আদালতে ধর্ষকের গলার আওয়াজ শুনেই চিহ্নিত করলেন ওই মহিলা। ২৪ শে জুলাই সাজা ঘোষণা ।
সম্ভবত ভারতের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে প্রথমবার একজন দৃষ্টিহীন ধর্ষণকারীকে তার গলার স্বর দিয়ে চিহ্নিত করলেন দৃষ্টিহীন ধর্ষিতা। সেই ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ২৪শে জুলাই ওই অন্ধ ধর্ষণকারীর সাজা ঘোষণা করা হবে। দোষী সাব্যস্ত হওয়া সৌরভ কাপুর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ট্রেনি অফিসারের কাজ করত বলে জানা গিয়েছে। [ আরও পড়ুন: ৮ বছরের মেয়ের ধর্ষককে যা সাজা দিল গ্রামবাসীরা তা চমকে দেওয়ার মতো]

২০১৪ সালে নির্যাতিত মহিলার স্বামীর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে তা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও এই ঘটনার আরও তদন্ত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন দিল্লির বাসিন্দা ওই মহিলা। এরপরই তিনি একজন ভাল আইনজীবীর খোঁজ করতে থাকেন। তাঁরই এক বন্ধু সৌরভ কাপুরের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। সৌরভই একজন ভাল আইনজীবী খুঁজে দিতে সাহায্য করবেন বলে জানান ওই মহিলার বন্ধু। এরপর ২০১৫ সালের ৩০ শে মে, আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার নাম করে ৩২ বছরের ওই মহিলাকে গুরুগ্রামে নিয়ে যায় সৌরভ। কিন্তু কোনও আইনজীবীর অফিসে না নিয়ে গিয়ে একটি গেস্ট হাউসে ওঠে তারা। সেখানেই দৃষ্টিহীন সৌরভ ওই দৃষ্টিহীন মহিলাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ওই মহিলা কান্নাকাটি শুরু করতে তাঁকে শান্ত করতে বিয়ের আশ্বাস দেয় সৌরভ। এরপর আরও ৬ মাস ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করতে থাকে সে। এমনকী বেশ কয়েকবার অভিযোগকারীর কাছ থেকে টাকাও হাতিয়ে নেয় সৌরভ। কিছুদিন পরেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সৌরভ সরে আসে বলে অভিযোগ করেন ওই মহিলা।[আরও পড়ুন:ডোকলাম নিয়ে কেন উত্তাপ বাড়ছে ভারত-চিনের মধ্যে, জেনে নিন সমস্যার ইতিবৃত্ত]
এরপরই দিল্লির দৃষ্টিহীনদের একটি সংগঠনে যোগাযোগ করেন ওই মহিলা। সেখান থেকেই ফাতিমা কবির নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যের সাহায্যে দিল্লির মেনওয়ালি নগর পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা। পরে অবশ্য এই মামলাটি গুরুগ্রামের ডিসিপি পশ্চিমের কাছে চলে যায়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত সৌরভকে।[আরও পড়ুন:'জগ্গা জাসুস'-এর অভিনেত্রীর রহস্যমূত্যু, আত্মহত্যা না কি খুন, গ্রেফতার স্বামী]
কিন্তু আদালতে সৌরভকে দোষী প্রমাণ করা খুব সহজ ছিল না। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দুজনেই দৃষ্টিহীন হওয়ায় মহাফাঁপড়ে পড়েন সরকারি আইনজীবীও। প্রথমেই দুজনেরই মোবাইলের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখা হয়, এরপর ফরেনসিক ও নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হয়। তাতে স্পষ্ট হয়ে যায় ঘটনার সময়ে দুজনেই একই জায়গায় ছিল। কিন্ত তাতেও সৌরভকে দোষী প্রমাণিত করা যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী অরবিন্দ শর্মা। এরপরই আদালত কক্ষে হাজির করিয়ে অভিযুক্ত সৌরভকে দিয়ে কয়েকটি কথা বলানো হয়। সৌরভের গলার আওয়াজেই তাকে চিহ্নিত করেন অভিযোগকারী মহিলা। নির্যাতিতার বয়ান শোনার পরই সৌরভ কাপুরকে দোষী সাব্য়স্ত করেন বিচারক রজনী যাদব।












Click it and Unblock the Notifications