Bilkis Bano case: বিলকিস বানো মামলায় ফের একবার সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল গুজরাত সরকারের
সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার বিলকিস বানো মামলায় গুজরাত সরকারের এই রায়ের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনকে খারিজ করেছে। এই ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সুপ্রিম নির্দেশে তাদের ফের সাজা খাটতে সংশোধনাগারে ফেরত আসতে হয়েছে। সেই মামলাতেই আদালত গত ৮ জানুয়ারি নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিল। সেখানে গুজরাত সরকারের বিরুদ্ধে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল যা সরকার মনে করেছিল সঠিক হয়নি। তার বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন হলে তা সর্বোচ্চ আদালত পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে।
২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার সময় বিলকিস বানোকে ধর্ষণ করা হয় এবং তাঁর পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করা হয়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এই গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্ত সিবিআই করেছিল। এখানেও ঘটনা ধামাচাপা দিতে বহু চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই কথা আদালতে জানিয়েছিল খোদ তদন্তকারীরাই।

এদিন বিভি নাগরত্না এবং উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ গুজরাত সরকারের আবেদন খারিজ করে জানিয়েছে, রিভিউ পিটিশন ভালোভাবে খতিয়ে দেখার পর আদালত মনে করছে, এর কোনও মেরিট নেই। এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোনও ত্রুটি ছিল না। ফলে নতুন করে বিবেচনার প্রয়োজন নেই।
ঘটনা হল, বিলকিস বানো মামলা দীর্ঘদিন আদালতে চলেছে। বিলকিস বানো নিজে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে বিচার চান। এমনকী তাঁকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে ও হামলার আশঙ্কার কথাও জানান। সেই মামলায় চার্জ গঠন করা হলে তাতে কয়েকজন পুলিশ অফিসারও ছিল। দীর্ঘ ছয় বছর পরে ২০০৮ সালে মোট ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায় আদালত।
এর দীর্ঘ ১৪ বছর পরে ২০২২ সালে এই সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা আদালতে মুক্তির আবেদন জানায়। আদালত বিষয়টি গুজরাত সরকারের হাতে ছাড়ে। মে মাসে আবেদনের পরে সেবছরের অগাস্ট মাসেই স্বাধীনতা দিবসের দিন ১১ জন সাজাপ্রাপ্তকে মুক্তি দেয় গুজরাত সরকার।
পরে শীর্ষ আদালতই সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তি এবছরের জানুয়ারি মাসে খারিজ করে জানিয়েছিল, ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়া ঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের মুক্তি দেওয়ার কোনও এক্তিয়ারই গুজরাত সরকারের ছিল না। বরং মামলার শুনানি যেহেতু গুজরাত থেকে সরে মহারাষ্ট্রে হয়েছে, সেহেতু সেই রাজ্যের সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল, গুজরাত সরকারের নয়।
সেইসময় শীর্ষ আদালত গুজরাত সরকারের তীব্র সমালোচনা ভর্ৎসনা করেছিল। আদালতের রায়ের অপব্যবহারের কথাও বলা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত মন্তব্যকেই নেতিবাচক মনে করে তা সরানোর আবেদন করেছিল গুজরাত সরকার যা এদিন শীর্ষ আদালত সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications