তামিলনাড়ুর গ্রামে নৃশংসতা! দুশোর বেশি আধিকারিককে জেলে পাঠাল মাদ্রাজ হাইকোর্ট
তামিলনাড়ুর ধর্মপুরী জেলার একটি আদিবাসী গ্রামে অভিযানের সময় যৌন নির্যাতন ও নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ ছিল ১৯৯২ সালের। নিম্ন আদালত পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগের ২১৫ জন কর্মী ও আধিকারিকের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল। যুগান্তকারী রায়ে মাদ্রাজ হাইকোর্ট সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রেখেছে।
বিচারপতি পি ভেলমুরুগান তাঁর আদেশে বলেছেন, আদালত দেখেছে সব ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের প্রমাণ দৃঢ় ও সামঞ্জস্য পূর্ণ যা নির্ভরযোগ্যও বটে। বিচারপতি পি ভেলমুরুগান তাণর আদেশে বলেছেন, প্রসিকিউশনে তার প্রমাণের মাধ্যমে মামলায় প্রমাণ করেছে।

উল্লেখ্য ১৯৯২ সালের ২০ জুন সরকারি কর্মী ও আধিকারিকরা চন্দন কাঠ চোরাচালানের সন্ধানে ধর্মপুরী জেলায় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে ব্যাপকভাবে সম্পদ ও গবাদি পশু ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও অন্তত ১৮ জন মহিলার ওপরে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
২০১১ সালে ধর্মপুরীর দায়রা আদালত মামলার সঙ্গে জড়িত ১২৬ জন বনকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে চারজন ভারতীয় বন পরিষেবার আধিকারিক, ৮৪ জন পুলিশ এবং পাঁচজন রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা। ২৬৯ জন আসামীর মধ্যে ৫৪ জন বিচার চলাকালীন মারা যান এবং বাকি ২১৫ জনকে ১ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় বহাল রেখে হাইকোর্ট দায়রা আদালতকে নির্দেশ দিয়েঠছে অবিলম্বে সব আসামিদের সাজার বাকি মেয়াদের জন্য হেফাজত নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপতি ভেলমুরুগান তামিলনাড়ু সরকারকে ২০১৬ সালের ডিভিশন বেঞ্চের আদেশ অনুসারে প্রতিটি ধর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোষী সাব্যস্ত হওয়া পুরুষদের থেকে এর ৫০ শতাংশ পুনরুদ্ধারের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্তদের রক্ষা করার জন্য তৎকালীন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলার বন কর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি বলেছেন, জানাজানি হওয়ার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বরং প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করতে গিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের নির্যাতিত হতে হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications