এআইইউডিএফের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট ছিন্ন করার পিছনে রয়েছে কোন কারণ?
অসমে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট সংক্ষেপে এআইইউডিএফ-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল জাতীয় কংগ্রেস। এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআইইউডিএফ-এর নেতৃত্বের একাংশের বিজেপি-র জয়গান করা এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আজমলের ভাই সিরাজউদ্দিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি দলের নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। এবং একই সঙ্গে জানিয়েছেন, রাজ্যের উন্নয়নে অনেক কাজ হিমন্ত করছেন যা রাজ্যকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই জোট সঙ্গী কংগ্রেস বিস্মিত হয়। এবং একইসঙ্গে অভিযোগ করে যে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে এই কাজ আজমল এবং তাঁর ভাই সিরাজউদ্দিন করেছেন। কংগ্রেসের তরফে মঙ্গলবার দলের নেতা জিতেন্দ্র সিং সংবাদমাধ্যমে জানান, মহাজোটে থাকা একটি দল লুকিয়ে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এটা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। যদিও কংগ্রেসের এই জোট ভাঙার পিছনে শুধুই যে এই কারণ রয়েছে তা মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সামনেই রাজ্য উপনির্বাচন রয়েছে। পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন রয়েছে যার মধ্যে তিনটি হবে আপার অসমে। এবং সেখানে হিন্দু ভোটারদের টার্গেট করতেই কংগ্রেস আজমলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল বলে এক প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন। অসমের এই পার্বত্য এলাকাগুলিতে এর আগের নির্বাচনে কংগ্রেস অত্যন্ত খারাপ ফল করেছে। এবং তার পিছনে এই আজমলের দলের সঙ্গে জোট থাকাকেও অনেকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে পার্বত্য অসমে বিজেপি মেরুকরণের রাজনীতি করে ভোট পেয়েছে। বারাক উপত্যকা এবং অসময়ের সমতল এলাকায় অপেক্ষাকৃত ভালো ফল করেছে কংগ্রেস মহাজোট।
আগামিদিনে পার্বত্য অসমে মারিয়ানি, মাজুলি, থোহড়া, তামুলপুর ও গোঁসাইগাঁওয়ে উপনির্বাচন রয়েছে। আর সেখানে ভালো ফল করতে কংগ্রেস মরিয়া।
আজমলের দলের সঙ্গে জোটের পর কংগ্রেসকে মুসলিম পার্টি বলে একপ্রকার দেগে দেওয়া হয়। প্রচারে যার পুরো সুবিধা বিজেপি পকেটে পুরে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের দিকে করে নিতে পেরেছে। এই মুহূর্তে যখন আজমলের দল বিজেপির দিকে ঘেঁষার চেষ্টা করছে তখন দুটি বিষয় কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচারে আনার চেষ্টা করবে। প্রথমত, মুসলিমদের কাছে গিয়ে বলতে পারবে যে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ ও মহাজোট তৈরি করার চেষ্টা করলেও এআইইউডিএফ বিজেপির দিকে ঢলে পড়েছে। অন্যদিকে, হিন্দুদের দিকে কংগ্রেসের প্রচ্ছন্ন বক্তব্য থাকবে যে আমরা এআইইউডিএফ এর সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি। এই অবস্থায় আগামী উপনির্বাচনের ফলাফল খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে অসম কংগ্রেসের কাছে।
ঘটনা হল ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় মহাজোট ৫০ টি আসন পেয়েছিল। যার মধ্যে কংগ্রেস ২৯ টি, এআইইউডিএফ ১৬টি, বিপিএফ চারটি এবং সিপিএম একটি আসন পায়। এখন এআইইউডিএফ বেরিয়ে যাওয়ার ফলে অখিল গগৈ-এর দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৬ সালের নির্বাচন এবং ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফল দেখলে আন্দাজ করা যাবে যে সেরাজ্যে কংগ্রেসের জনসমর্থন খুব একটা কমেনি। বরং গত পাঁচ বছরে তা একই রয়েছে। ২০১৬ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল ৩০.৯৬ শতাংশ ভোট। এবং ২০২১ সালে প্রায় ২৯.৬৭ শতাংশ ভোট। এই অবস্থায় মেরুকরণের সুবিধা বিজেপি যদি তুলতে না পারে সেক্ষেত্রে কংগ্রেস প্রতিযোগিতা দিতে পারবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications