হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ অসম সরকার বন্দুক দেবে বাঙালি মুসলিমদের

গত দু'দিনে অসমের কোকরাঝাড় ও বাকসায় এনডিএফবি (ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড) জঙ্গিদের হামলায় খুন হয়েছে অন্তত ৩৪জন বাঙালি মুসলিম। প্রসঙ্গত, কোকরাঝাড় ও বাকসা হল বোড়ো-অধ্যুষিত এলাকা। বাঙালি মুসলিমরা যাতে প্রাণ বাঁচাতে এখান থেকে পালায়, এই উদ্দেশ্য নিয়েই হামলা শানিয়েছিল বোড়ো জঙ্গিরা। তাঁরা এখন ভীত বটে, কিন্তু ভিটেমাটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছেন না। স্থানীয় মুসলিমরা জানিয়ে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকবেন তাঁরা। এর জেরে রাজ্য সরকারের আশঙ্কা, হয়তো আবারও হামলা চালানোর চেষ্টা করবে বোড়ো জঙ্গিরা। তাই রাজ্যের বনমন্ত্রী রকিবুল হাসান মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈকে প্রস্তাব দেন, ওই বাঙালি মুসলিমদের যেন লাইসেন্স-সহ বন্দুক সরবরাহ করা হয়। তাতে অতর্কিতে হামলা হলে প্রাণে বাঁচতে পারবে নিরীহ মানুষগুলো। জানা গিয়েছে, এই প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সায় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। এবার আইন মোতাবেক একটি নির্দেশিকা জারি করবে সরকার।
এদিকে, রাজ্য পুলিশের ডিআইজি শুভ্রজ্যোতি হাজারিকা জানান, গতকাল সকালে উদলগুড়িতে পুলিশের গুলিতে একজন বোড়ো জঙ্গি নিহত হয়েছে। আর দুপুরে শোণিতপুরে সংঘর্ষে মারা গিয়েছে আরও দুই জঙ্গি। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, দু'টি গ্রেনেড এবং কিছু আপত্তিকর কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অসম পুলিশের ডিজি এ পি রাউত বলেন, "পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কিছু জায়গায় আমরা কারফিউ শিথিল করেছি। সোমবার বাকসায় কারফিউ শিথিল করা হবে। আপাতত ঘটনার তদন্ত করছে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। এর পর এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) এলে তাদের সব রকম সহায়তা দেওয়া হবে।"
এদিকে, এই দাঙ্গার জেরে এখন তোপের মুখে তরুণ গগৈ। জামিয়াত-ই-উলেমা হিন্দের নেতা মৌলানা মেহমুদ মদানির অভিযোগ, রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের শরিক হল বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট। এই গণহত্যার পিছনে এনডিএফবি-র পাশাপাশি বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টও জড়িত। অথচ এখনও এদের সঙ্গে সরকার চালাতে বিন্দুমাত্র 'লজ্জিত' নন তরুণ গগৈ।
বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, গোধরা দাঙ্গার পর যদি নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তোলা হয়, তা হলে কেন তরুণ গগৈকে কিছু বলা হবে না? আদালত কর্তৃক নরেন্দ্র মোদী ক্লিনচিট পাওয়া সত্ত্বেও কিছুদিন আগে তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন তরুণ গগৈ। তা হলে, এখন তরুণ গগৈয়ের উচিত, অন্যের দিকে আঙুল না তুলে আত্মসমীক্ষা করা। পাশাপাশি, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের এই দুরবস্থা নিয়ে এখন মুখে কুলুপ এঁটেছে কংগ্রেস।
রাজ্যে বাঙালি মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৫২, ১৯৮৩ এবং ২০১২ সালেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল।












Click it and Unblock the Notifications