বাল্য বিবাহ আইনে গ্রেফতার জনজীবনে বিপর্যয় তৈরি করেছে! অসম সরকারের পকসো আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন আদালতের
বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে অসম সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। প্রশ্ন উঠেছে আইনের প্রয়োগ নিয়ে।
মাসের শুরু থেকে অসমে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। তবে গুয়াহাটি হাইকোর্টে বাল্য বিহারের চারটি আলাদা মামলায় নয়জনের আগাম জামিন মঞ্জুর করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাইকোর্ট বলেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা ন্যায়সঙ্গত নাও হতে পারে।

বিচারপতির প্রশ্ন
বিচারপতি সুমন শ্যাম বলেছেন, যে কোনও কিছুর সঙ্গে পকসো যুক্ত করা যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে পকসোর অপরাধ কোথায়, প্রশ্ন করেছেন বিচারপতি। তিনি বলেছেন, পকসো যুক্ত করার অর্থ বিচারপতি দেখতে পাচ্ছেন না।

পুলিশি তদন্তে বাধা নয়
বিচারপতি আরও বলেছেন, অভিযোগ গুরুতর হওয়ার কারণে পুলিশের তদন্তে যেমন বাধা দেওয়া হচ্ছে না, ঠিক তেমনই কাউকে দোষমুক্তও করা হচ্ছে না। প্রসঙ্গত হাইকোর্টের তরফে বাল্য বিবাহের অভিযোগে বনগাইগাঁও, মারিগাঁও, নগাঁও এবং কামরূপ জেলায় চারটি মামলায় নয়জনকে জামিন দিয়েছে।

রাজ্যের দাবি প্রত্যাখ্যান
রাজ্যের তরফে আদালতে নয়জনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বিচারপতি বলেছেন, এগুলি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় নয়। অসম পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের অনুমান করে পকসো আইনে অভিযোগ এনেছে। সাধারণভাবে যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে তিনবছরের কারাদণ্ড রয়েছে। এছাড়া জরিমানা-সহ ৫ বছরের কারাদণ্ডের সংস্থানও রয়েছে। এই অপরাধ জামিন অযোগ্য এবং পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে।

জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে
আদালতে অসমের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ডি দাসের আবেদন প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, আইনের অধীনে তদন্ত চালিয়ে যান, চার্জশিট দাখিল করুন। দোষী সাব্যস্ত হলে, দোষী সাব্যস্ত হবেন সেই অভিযুক্ত। বিচারপতি বলেন, এই আইন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেছেন, শিশু রয়েছে, পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন, বৃদ্ধরাও রয়েছেন। সেখানে বাল্য বিবাহ একটি খারাপ ধারণা। সময় মতো বিষয়টি নিয়ে আদালত তাদের মতামত দেবে বলে জানান তিনি। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের এই অবস্থানে বাল্য বিবাহের জন্য পকসো আইনে গ্রেফতারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গুয়াহাটি আদালতে বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত মামলায় অভিযুক্তের পক্ষে সওয়ালকারী এক আইনজীবী বলেছেন, এক্ষেত্রে পকসো আইনে যুক্ত হওয়ায় অভিযুক্তের জেলের মেয়াদ দীর্ঘতর হচ্ছে। আইনজীবীরা বলছেন, পকসো আইন একটি কঠোর আইন। এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এইসব আইনজীবীরা বলেছেন, পুলিশই বিষয়টিকে জটিল করতে এবং কারাবাসকে দীর্ঘতর করতে পকসো আইনকে যুক্ত করছে এবং পরিবারগুলিকে খারাপ অবস্থার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications