পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ, বাংলাদেশ সফরের অভিযোগ! ওয়াংচুককে ঘিরে লাদাখে চাঞ্চল্য
লাদাখ পুলিশের প্রধান এস ডি সিং জামওয়ালের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, লাদাখের পরিচিত পরিবেশ আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এমনকি বাংলাদেশ সফরও করেছেন।
জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়া ওয়াংচুককে শুক্রবার রাজস্থানের যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সম্প্রতি এক পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি নাকি ওয়াংচুকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। জামওয়ালের বক্তব্য, "তিনি পাকিস্তানের 'ডন' পত্রিকার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশও গিয়েছিলেন। তাই তাঁর কার্যকলাপ নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।"

গত ২৪ সেপ্টেম্বর লেহ তে বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত চার জনের মৃত্যু ও প্রায় ৮০ জন আহত হন। পুলিশ ও সরকারের দাবি, এই হিংসার জন্য ওয়াংচুকের উত্তেজক ভাষণই দায়ী। স্থানীয় বিজেপি দপ্তর ও কয়েকটি সরকারি গাড়ি তছনছ করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ,আরব স্প্রিং ও নেপালের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের উল্লেখ করে তিনি জনতাকে প্ররোচিত করেছিলেন।
জামওয়াল আরও দাবি করেন, "ওয়াংচুক অতীতেও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আরব স্প্রিং, নেপাল ও বাংলাদেশের উদাহরণ টেনেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন সেকমল এর অর্থায়ন নিয়েও তদন্ত চলছে, যেখানে বিদেশি অনুদান নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।" ইতিমধ্যেই ওই প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে লাদাখের পুলিশপ্রধান বলেন, "আমরা আরও দু'জনকে আটক করেছি। তাঁদের বিদেশি যোগসাজশ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অঞ্চলে নেপালি শ্রমিকদের দীর্ঘদিন কাজ করার ইতিহাস রয়েছে। তাই সবকিছু খুঁটিয়ে দেখা প্রয়োজন।"
ওয়াংচুক গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশনে বসেন, লাদাখের জন্য ষষ্ঠ তফসিল, রাজ্যের মর্যাদা ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দাবি করে। এরইমাঝে সরকারের সঙ্গে লেহ এপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আলোচনাও চলছিল। পুলিশ দাবি করেছে, ওয়াংচুক ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা সেই আলোচনার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছেন।
তবে বামপন্থী সংগঠন সিপিআই মাক্সিস্ট লেনিন লিবারেশন ওয়াংচুকের গ্রেপ্তারির নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, সরকারের এ পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই ফল।১৫ দিনের অনশন ভেঙে ওয়াংচুক সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ পথেই আন্দোলন চালাতে হবে। তবে সরকারের অভিযোগ ও পুলিশের কঠোর অবস্থান ঘিরে লাদাখে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications