ত্রিপুরায় তৃণমূলের উপর হামলা-গ্রেফতারির প্রতিবাদকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ডাক অভিষেকের
ত্রিপুরায় তৃণমূলের উপর হামলা-গ্রেফতারির প্রতিবাদকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ডাক অভিষেকের
ত্রিপুরায় তৃণমূল নেতাদের উপর হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদকে এবার দিল্লি পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, গ্রেফতার ও থানায় এনে হেনস্থার প্রতিবাগে সোমবার সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখাবেন তৃণমূল সাংসদরা।

তৃণমূলের নেতাদের যদি মহামারী আইনে গ্রেফতার করা হয়
অভিষেক বলেন, সংসদ ভবন ছাড়াও গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের সাংসদরা অবস্থান চলবে। ত্রিপুরায় জঙ্গলের রাজত্ব চলছে, পুলিশ দ্বিচারিতা করছে। প্রশাসনের কোনও মেরুদণ্ড নেই। তিনি প্রশ্ন করেন, তৃণমূলের নেতাদের যদি মহামারী আইনে গ্রেফতার করা হয়, তবে কেন থানার বাইরে, রাস্তায় জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখানো বিজেপির নেতা-কর্মীদের মহামারী আইনে গ্রেফতার করা হবে না।

পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পরও কোনও সুরাহা হয়নি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থোয়াই থানায় তৃণমূলের কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পরও কোনও সুরাহা হয়নি। তৃণমূল নেতাদের মুক্তিও দেয়নি পুলিশ আর বাইরে জমায়েত বিজেপি নেতা-কর্মীদেরও গ্রেফতার করেনি। এমনকী গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতাদের আদালতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিজেপি কর্মীরা ভিড় জমান। পুলিশ ছিল নীরব দর্শকরে ভূমিকায়।

মহামারী আইনে গ্রেফতার হওয়া সুদীপ রাহা অসুস্থ
এদিকে ত্রিপুরার খোয়াই থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যখন পুলিশের বাকবিতণ্ডা চলছে, তখন মহামারী আইনে ত্রিপুরায় গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা সুদীপ রাহা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সেখানেই তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আদালত পেশ করা হয়। আদালতে পেশ করা হয় বাকি ১৩ জন তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে। তাঁদের সঙ্গে আদালতে যান কুণাল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, দোলা সেনরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থানায় অবস্থান করেন।

আদালত চত্বরে তৃণমূল নেতাদের গাড়ি ভাঙচুর
খোয়াই থানা থেকে উত্তেজনা আদালত চত্বর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আদালত চত্বরে তৃণমূল নেতাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গাড়ি ভাঙচুর করা হয় আইনজীবীদেরও। তৃণমূলের অভিযোগ, আদালত চত্বরেও বিজেপির গুন্ডারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। গাড়ি ভাঙচুর করছে। কোনও নিরাপত্তা নেই। সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুবল ভৌমিকের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

বিপ্লব দেবের স্বৈরাচারী সরকারের অবসান ঘটবে
অভিষেক বন্দ্যপাধ্যায় বলেন, আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। যত ক্ষমতা আছে প্রয়োগ করে নিন, আমরাও দেখব বিপ্লব দেবের সরকার আমাদের আইনের শাসন লাগু করা থেকে আটকাতে পারে কি না। ত্রিপুরায় এখন শাসনের আইন চলছে। এবার বিপ্লব দেবের স্বৈরাচারী সরকারের অবসান ঘটবে। মানুষই জবাব দেবে এই স্বৈরাচারী শাসককে। সেদিন আর বেশি দূরে নেই। আর ১৭ মাস পরেই ত্রিপুরার নির্বাচনে, ত্রিপুরার মানুষ বিজেপিকে উৎখাত করতে মুখিয়ে রয়েছে। তাই বিরোধী শক্তি দেখলেই হামলার রাস্তায় হাঁটছে বিজেপি।

বাংলা জয়ের পর ত্রিপুরায় সংগঠনের বিস্তারে নেমে
তৃণমূল ২০২৩-এ ত্রিপুরাকে পাখির চোখে করেছে। তাই বাংলা জয়ের পর ত্রিপুরায় সংগঠনের বিস্তার করতে কোমর বেঁধেছে তৃণমূল। ত্রিপুরায় দলের সংগঠন বিস্তারের কাজে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের যুব নেতারা। তাঁদের ছাড়াতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরার খোয়াই থানায় অবস্থানে বসেন। অভিষেকের নেতৃত্বে কুণাল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, দোলা সেনরা থানায় অফিসারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

অশোক স্তম্ভের ব্যাচ বুকে আছে, পদ্মফুল নয়
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের কাছে জানতে চান, কার অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের যুবনেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিষেক পুলিশের উদ্দেশে বলেন, মনে রাখবেন আপনার বুকে অশোক স্তম্ভের ব্যাচ পরা আছে, পদ্মফুলের প্রতীক নেই। নিজের কর্তব্য ভুলে যাবেন না। বিজেপির দলদাসে পরিণত হবেন না

পুলিশের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের
কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, ব্রাত্য বসুরা সরব হন পুলিশের দ্বিচারিতা নিয়ে। তাঁরা বলেন, বাইরে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী জড়ো হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গো-ব্যাক ধ্বনি তুলছেন, তাতে মহামারী আইন ভঙ্গ হচ্ছে না। আর ১৪ জন তৃণমূল নেতা এক জায়গায় জড়ো হলে মহামারী আইন ভঙ্গ হয়। কেন এই দ্বিচারিতা।

ঠুঁটো পুলিশ-প্রশাসন ত্রিপুরায়, সংসদে হবে প্রতিবাদ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার আগরতলা বিমানবন্দরে নেমে সটান খোয়াই থানায় যান। তিনি ধৃত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও আদতে কোনও লাভ হয়নি। দীর্ঘক্ষণ তর্কাতর্কিই হয় পুলিশের সঙ্গে, কিন্তু পুলিশ থানা থেকে কাউকে জামিন দিতে অস্বীকার করে। বাইরে জমায়েত হওয়া বিজেপি কর্মীদের কাউকেই গ্রেফতার করেনি। এমনকী পুলিশ আক্রান্ত হলেও হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাই ঠুঁটো পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্ত না হয়ে এবার এই প্রতিবাদকে দিল্লির সংসদ ভবন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন অভিষেক।












Click it and Unblock the Notifications