বেঙ্গালুরুতে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে ট্র্যাকে পড়ে মৃত্যু মহিলার, জানতেও পারল না সফরসঙ্গী মা ও মেয়ে
বেঙ্গালুরুতে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে ট্র্যাকে পড়ে মৃত্যু মহিলার, জানতেও পারল না সফরসঙ্গী মা ও মেয়ে
শনিবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল বাইপ্পানাহল্লির স্যার এম বিশ্বেশ্বরায় টার্মিনাল। চলন্ত ট্রেনে উঠতে গেলে এক মহিলা ট্রেনের নীচে ট্র্যাকে পড়ে যান। রেলকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মহিলার সঙ্গে তাঁর মা ও তিন বছরের মে ছিলেন। তাঁরা দুর্ঘটনার কথা জানেন না। ট্রেনে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন।

বেঙ্গালুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে যাচ্ছিলেন শীতল। ১২৫৫১ নম্বরের ট্রেনটি ৯.০৩ মিনিটে এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মহিলা তার এসি কোচ থেকে বেরিয়ে প্ল্যাটফর্মের একটি স্টলে তার মেয়ের জন্য কিছু চিপস কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি হঠাৎ দেখেন ট্রেনটি চলতে শুরু করেছে। তিনি চলন্ত ট্রেনে দৌড়ে উঠতে যান। ওই মহিলা পিছলে যান এবং ট্র্যাকের উপর পড়ে যান। প্ল্যাটফর্মে টহলরত সরকারি রেলওয়ে পুলিশ কনস্টেবল শিবরাজ অবিলম্বে তাকে প্ল্যাটফর্মে টেনে তোলেন। এরপরেই তাঁকে সাহায্য করতে রেল পুলিশের একাধিক আধিকারিকরা আসেন।
যখন মহিলাটিকে ট্র্যাক থেকে তোলা হয়, তাঁর হাতটি ঝুলে ছিল। প্রাথমিতভাবে মনে করা হয়েছিল, তাঁর একটি হাত ভেঙে গিয়েছে। তিনি রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে হিন্দিতে কথা বলেন। তিনি রেলওয়ে পুলিশকে জানান, তিনি ঠিক রয়েছেন। তবে হাতের ভীষণ যন্ত্রণা করছে। রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে। তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বোরিং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মহিলাটি ট্রেনে পড়ে গেলেও পরে তাঁর মৃত্যু হলেও পরিবারটি কিছুই জানতে পারে না। তাঁরা ট্রেনে আলিপুরের দিকে যাত্রা করেন। রেলওয়ে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে মহিলাটিকে উদ্ধার করার পরেই তিনি তাঁর মায়ের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। রেলওয়ে পুলিশ তাঁর মাকে ফোন করে সতর্ক করার জন্য। কিন্তু কেউ ফোনটি ধরেনি। যার ফলে মহিলার পরিবারকে কিছু জানানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে বাঁ হাতটি ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু মাথায় অভ্যন্তরীণ কোনও আঘাত পেয়েছিলেন। সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। তারপরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
রেলওয়ে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, 'প্রাথমিকভাবে ওই মহিলাকে উদ্ধার করার পর খুব খুশি হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল শুধু হাতে আঘাত পেয়েছেন। ওই মহিলাও আমাদের জানিয়েছিলেন তিনি ঠিক আছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমরা মহিলাকে বাঁচাতে পারলাম না। এরজন্য আমাদের খুব খারাপ লাগছে।'












Click it and Unblock the Notifications